জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমরা পরিবর্তনের জন্য রক্ত দিয়েছি, জীবন দিয়েছি। এক দলকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে আরেক দলের লুটপাটের জন্য বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা রক্ত দেয় নাই। আপনারা ভয় পাবেন না। বিগত সময় একটা দলের শাসন ছিল, আর কোনো দল কথা বলতে পারতো না। কথা বললেই জেলে নিয়ে যাওয়া হতো। গুম করা হতো, হয়রানি করা হতো।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা তালতলা চত্বরে ‘জুলাই পদযাত্রা’ ও পথসভায় বক্তব্যের সময় তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা দেখছি বাংলাদেশকে আবারও একদলীয় শাসনের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এক ক্ষমতাসীন দল, সরকারি দলই কথা বলবে। অন্য দলকে কথা বলতে দেওয়া হবে না। সংসদে আমাদেরকে কথা বলতে দেওয়া হয় না। আমরা জনসভায় কথা বলতে গেলে ককটেল ফাটানো হয়। এই একদলীয় শাসন যদি আবার শুরু করার কথা কেউ ভাবে, আওয়ামী লীগের পরিণতির কথা আপনারা ভাববেন। আওয়ামী লীগ ১৬ বছরে একদলীয় শাসন করে দিল্লিতে হেলিকপ্টার নিয়ে পালাতে হয়েছিল। এখন তারা নিষিদ্ধ টাকা দিয়ে কয়েকটা মিছিল করে। বাংলাদেশে অস্থীতিশীলতা তৈরি করার চেষ্টা করছে। সেই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে থাকবো।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরে আমাদের সবার দাবি ছিল সংস্কার, অর্থাৎ দেশের পরিবর্তন। বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকার বাংলাদেশ থেকে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে, লুটপাট করেছে। বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের গুম-খুন করেছে এবং শাপলা গণহত্যা করেছে, পিলখানা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এবং জুলাই মাসে সাধারণ ছাত্রদেরকে হত্যা করেছে। সেটার বিচার আমরা চেয়েছিলাম, আমরা এমন একটা দেশ এবং সরকার চেয়েছিলাম যাতে বাংলাদেশে কথা বলার অধিকার থাকে, মত প্রকাশের অধিকার থাকে। সেই কারণে সংস্কারের দাবি এসেছিল।
নাহিদ ইসলাম বলেন,আপনারা দেখেছেন ৩২টি দল মিলে দীর্ঘ ছয় সাত মাস ধরে আলোচনা করে তারা জুলাই সনদ প্রণীত করেছিল। সেই জুলাই সনদের জন্যই পরবর্তীতে নির্বাচন হয়েছিল গণভোট। গণভোট এবং সংসদ নির্বাচন একসঙ্গে হয়েছিল। সেই সংসদ নির্বাচনের পাশে গণভোটে আমরা সবাই ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ তে ভোট দিয়েছিলাম। বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ -এর পক্ষে, সংস্কারের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, এই বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পাল্টে গিয়ে সেই সংস্কার এবং জুলাই সনদকে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। গণভোটকে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং এখন পর্যন্ত তারা সংস্কার বাস্তবায়ন করে নাই। আমরা বলছি, সংস্কার হচ্ছে জনগণের ম্যান্ডেট। আপনারা-আমরা সবাই ভোট দিয়েছি সংস্কারের পক্ষে। কেন আমরা সংস্কার চাই? আমরা সংস্কার চাই যাতে পুলিশ সংস্কার হয়। পুলিশ কোনো দলীয় পুরুষ না হয়। প্রশাসন কোনো দলীয় পুলিশ প্রশাসন না হয়। আপনারা আদালতে গেলে যাতে ন্যায়বিচার পান। যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হয়। তাহলে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি কোনো কিছুই বন্ধ হবে না। মাদক কারবারি বন্ধ হবে না। কারণ পুলিশ দলীয় পুলিশে পরিণত হবে। এদের কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারবে না।
নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে তরুণ ছাত্ররা নেমে এসেছিল চাকরির দাবিতে, কর্মসংস্থানের দাবিতে। আপনাদের প্রত্যেকের ঘরেই কিন্তু তরুণরা ও তরুণীরা রয়েছে। তাদের চাকরি দরকার, কর্মসংস্থান দরকার। এই বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার আগে বলেছিল, ১৮ মাসে তারা ১ কোটি কর্মসংস্থান তৈরি করবে। চার মাস গিয়েছে, কয়টা কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে? একটাও কর্মসংস্থান তৈরি হয় নাই। যেই বাজেট দিয়েছে সেই বাজেটে কোনো কর্মসংস্থানের রূপরেখা পর্যন্ত নাই।
তিনি বলেন, ইরান-আমেরিকার যুদ্ধের দোহাই দিয়েছে, সেই যুদ্ধ কিন্তু শেষের পথে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো জ্বালানির দাম কমে নাই, বরং সিলিন্ডারের দাম বাড়ানো হয়েছে, বিদ্যুতের দাম ১৭ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, সীমান্তে আমাদের ভাই-বোনদেরকে হত্যা করা হচ্ছে, পুশইন হচ্ছে। আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ যারা সরকারের দায়িত্বে রয়েছেন, তারা এই সীমান্ত হত্যাকে অস্বীকার করছেন। তারা পুশইন বন্ধে কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারছেন না। আমরা বলব রোহিঙ্গাদেরকে এরকম বাংলাদেশে প্রবেশ করিয়ে বাংলাদেশের ওপর একটা বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসাম থেকে বাংলাদেশে আবারও অবৈধ বাংলাদেশি বলে ভারতীয় নাগরিকদেরকে প্রবেশ দিয়ে বাংলাদেশিদের ওপর আরেকটা বোঝা চাপানের পাঁয়তারা বন্ধ করতে হবে। সরকারকে দৃঢ়ভাবে ভারতের সঙ্গে কথা বলতে হবে। এই অবৈধ পুশইন বন্ধ করতে হবে।
এ সময় এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দারসহ উপজেলার নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আরিফুল ইসলাম/এএমকে
