বিজ্ঞাপন

ভারী বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত

কক্সবাজারে দুই দিনে ১৩ প্রাণহানি, পানির নিচে ৩৫ ইউনিয়ন

কক্সবাজারে দুই দিনে ১৩ প্রাণহানি, পানির নিচে ৩৫ ইউনিয়ন

টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। জেলা শহর, সদর উপজেলা, উখিয়া ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প মিলিয়ে গত দুই দিনে অন্তত পৃথক ৬টি পাহাড়ধসে নারী ও শিশুসহ ১৩ জনের প্রাণহানি হয়েছে।

সর্বশেষ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দরিয়ানগর বড়ছড়া হাজীঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে লিমা আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় তার স্বামী জসিম উদ্দিন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ রুবেল বলেন, টানা বৃষ্টির মধ্যে হঠাৎ পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পাশের বসতবাড়ির ওপর পড়ে। এতে লিমা ও তার স্বামী জসিম মাটিচাপা পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধার করে তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক লিমাকে মৃত ঘোষণা করেন।

একই দিন দুপুরে উখিয়ার হলদিয়াপালং ইউনিয়নে পাহাড়ি ঢলের কারণে ঘরের মাটির দেওয়াল ভেঙে পড়লে মাটিচাপায় মারা যান স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ মানিক।

বিষয়টি নিশ্চিত করে হলদিয়াপালং ইউপি চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, নিহত মানিক দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন। হতদরিদ্র মানুষটির অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোক নেমে এসেছে।

এর আগে সোমবার উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নারী-শিশু ও কক্সবাজার শহরে এক বৃদ্ধসহ পাহাড়ধসে প্রাণ হারান ১১ জন।

জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেন, টানা ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পাহাড়িঢল আর জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে জেলার নিম্নাঞ্চল। ১০টি উপজেলার অন্তত ৩৫টি ইউনিয়ন ভারী বর্ষণে প্লাবিত হয়েছে। ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে জেলার বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক ও উপসড়ক। রেল লাইনের ওপর পানি উঠে যাওয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল চলাচল সাময়িক বন্ধ রয়েছে। একইভাবে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব উপজেলা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশ ও ঢালে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

আশ্রয়কেন্দ্র, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং জরুরি চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা প্রস্তুত রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পাহাড়ের ঢালে নির্মিত বসতি হওয়ায় উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গাক্যাম্পগুলোতে পাহাড়ধসের আশঙ্কা বেড়েছে। 

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা, জাতিসংঘের সংস্থা এবং সহযোগী মানবিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজন হলে ঝুঁকিপূর্ণ আশ্রয়ে থাকা পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হবে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের প্রধান আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান বলেন, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী কয়েকদিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। অতিবৃষ্টির ফলে পাহাড়ধস, পাহাড়ি ঢল এবং জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। সর্বশেষ আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুসরণ করে সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ করছি।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, গত ৪৮ ঘণ্টায় কক্সবাজারে অন্তত ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

ইফতিয়াজ নুর নিশান/এএমকে