বিজ্ঞাপন

ভারী বর্ষণে বেড়েছে ঝুঁকি

‎রাঙামাটিতে উঁকি দিচ্ছে ২০১৭ সালের ভয়াল স্মৃতি, ধসে পড়ছে ছোট-বড় পাহাড়

‎রাঙামাটিতে উঁকি দিচ্ছে ২০১৭ সালের ভয়াল স্মৃতি, ধসে পড়ছে ছোট-বড় পাহাড়

‎‎টানা ভারী বর্ষণে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে পাহাড় ধসের আশঙ্কা বেড়েছে। ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সম্ভাব্য প্রাণহানি এড়াতে জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে আহ্বান জানানো হচ্ছে। এ লক্ষ্যে জেলাজুড়ে ৪৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ২০১৭ সালে এ জেলায় পাহাড় ধসের ঘটনায় ১২০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। যারমধ্যে ছিলেন পাঁচ সেনা সদস্য।

‎জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় রাঙামাটি পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে ১১টিসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মোট ৪৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া পৌর এলাকায় ২৮টি স্থানকে পাহাড়ধসপ্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

‎গত সোমবার (৬ জুলাই) সকাল থেকে রাঙামাটি শহরের শিমুলতলী, রূপনগর, রাজমনি পাড়া, লোকনাথ মন্দির এলাকাসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার উদ্যোগে মাইকিং করে পাহাড়ের পাদদেশ ও ঢালে বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

‎‎রাঙামাটি সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আসলাম সারোয়ার বলেন, বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সার্বক্ষণিক কাজ করছে। আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং পাহাড়ের ঢাল ও পাদদেশে অবস্থান না করতে সবাইকে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

‎‎এদিকে দুর্ঘটনা এড়াতে জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, রাঙামাটি পৌরসভা, বাংলাদেশের সোসাইটি এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে নিয়মিত প্রচারণা ও মাইকিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে, পাহাড়ধসের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও জেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকা ও পাহাড়ের পাদদেশে এখনও প্রায় অর্ধলাখ মানুষ বসবাস করছেন। এর মধ্যে পৌর শহরের শিমুলতলী, রূপনগর, নতুনপাড়া, যুব উন্নয়ন এলাকা, রিজার্ভ বাজার, লোকনাথ মন্দির এলাকাসহ আরও বেশি কয়েকটি স্থান সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

‎এদিকে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) লোকনাথ মন্দির আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী। পরিদর্শনকালে সাংবাদিকরা পাহাড়ধসের ঝুঁকি, প্রশাসনের প্রস্তুতি ও আশ্রয়কেন্দ্রের কার্যক্রম নিয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।

‎উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১৩ জুন টানা তিনদিনের ভারী বর্ষণের পর রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ পাহাড়ধসে ১২০ জনের প্রাণহানি ঘটে। নিহতদের মধ্যে পাঁচ জন সেনা সদস্যও ছিলেন। এছাড়া দেড় হাজারের বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সেই মর্মান্তিক ঘটনার নয় বছর পেরিয়ে গেলেও ঝুঁকিপূর্ণ বসতি উচ্ছেদ ও নিরাপদ পূর্ণবাসনের স্থায়ী সমাধান এখনো বাস্তবায়িত না হওয়ায় বর্ষা এলেই নতুন করে আতঙ্কে থাকেন পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী মানুষ।

‎‎‎মোস্তফা কামাল রাজু/এমটিআই

বিজ্ঞাপন