বিজ্ঞাপন

লোভ দেখানো হয় সোনার বার ও ডলারের

‘সাতদিনের প্রেমিককে’ ছাড়াতে গিয়ে ৮০ হাজার টাকা খোয়ালেন তরুণী

‘সাতদিনের প্রেমিককে’ ছাড়াতে গিয়ে ৮০ হাজার টাকা খোয়ালেন তরুণী

হোয়াটসঅ্যাপে মাত্র সাত দিনের পরিচয়ে কথিত এক লন্ডন প্রবাসীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বরিশালের এক তরুণীর। তবে এই প্রেম তার থেকে হাতিয়ে নিয়েছে ৮০ হাজার টাকা।

লন্ডনপ্রবাসী পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তি আসলে ছিলেন এক প্রতারক চক্রের সদস্য। চক্রটি অত্যন্ত কৌশলে লিমা নামে এ তরুণীর থেকে ৮০ হাজার টাকা খুইয়েছে।

এ ঘটনায় প্রতারণার শিকার লিমা বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

জিডি সূত্রে জানা যায়, কথিত প্রেমিক ইমরান নামের ওই ব্যক্তি লিমাকে জানান, তিনি লন্ডন থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তিনি হোয়াটসঅ্যাপে বিমানের টিকিটের ছবিও পাঠান। পাশাপাশি দাবি করেন, তিনি সঙ্গে করে প্রায় ৪২ লাখ টাকা সমমূল্যের ডলার এবং প্রেমিকার জন্য স্বর্ণের বার নিয়ে আসছেন।

অভিযোগে বলা হয়, এরপর এক নারী নিজেকে কাস্টমস কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি জানান, ইমরান বিমানবন্দরে কাস্টমসের হাতে আটক হয়েছেন। তাকে ছাড়িয়ে আনতে ৮০ হাজার টাকা দিতে হবে। অন্যথায় তাকে জেলে পাঠানো হবে এবং সঙ্গে থাকা ডলার ও সোনার বার জব্দ করা হবে।

কথিত প্রেমিককে ছাড়িয়ে আনার আশায় লিমা নিজের কষ্টার্জিত ৮০ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে প্রতারকদের দেওয়া নম্বরে পাঠিয়ে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে টাকা পাঠানোর পরও ইমরানকে মুক্ত করা হয়নি। বরং আরও টাকা দাবি করে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হয়।

পরবর্তীতে অতিরিক্ত অর্থের জন্য স্বজনদের কাছে সহায়তা চাইলে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে তিনি বুঝতে পারেন, তিনি একটি প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়েছেন।

এ ঘটনার পর গত ৫ জুলাই বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় প্রতারণার অভিযোগে জিডি করেন ভুক্তভোগী লিমা।

তিনি বলেছেন, “হোয়াটসঅ্যাপে আমার সাথে ৭ দিনের পরিচয় ওই প্রতারকের। সে আমার সরল বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সর্বশেষ আমি প্রতারণার বিষয়টি বুজতে পেরে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।”

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন উল ইসলাম বলেন, প্রতারণার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরিফ হোসেন/এমটিআই