বিজ্ঞাপন

বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে প্রথম চাঁদপুরের মামুন

বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে প্রথম চাঁদপুরের মামুন

একটি স্বপ্ন আর অন্তহীন লড়াইয়ের পর অবশেষে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছালেন চাঁদপুরের হাসান আল মামুন। ৪৭তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারের ইতিহাস বিভাগে তিনি জাতীয় মেধায় ১ম স্থান অর্জন করে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।

হাসান আল মামুন চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার সাতবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মরহুম বাবুল মিয়া ও মমতাজ বেগমের ছেলে। বাবা মরহুম বাবুল মিয়া পেশায় একজন মুদি দোকানদার ছিলেন, মা মমতাজ বেগম গৃহিণী। তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে কনিষ্ঠ মামুন। তার বড় ভাই সুজন আরিফ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।

রোববার (২৮ জুন) বিকেল ৫টার দিকে ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। এতে বিভিন্ন ক্যাডার পদে ১ হাজার ৩২০ জন এবং নবম, দশম ও ১২তম গ্রেডভুক্ত নন-ক্যাডার পদে ২০১ জনসহ মোট ১ হাজার ৫২১ জনকে নিয়োগের জন্য সাময়িকভাবে সুপারিশ করা হয়। এর আগে ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর ৪৭তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সরকারি কর্ম কমিশন। ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শেষ হওয়ার মাত্র ৯ দিনের মাথায় ফল প্রকাশ করে রেকর্ড গড়ে পিএসসি। পরে একই বছরের ২৭ নভেম্বর থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। গত ৭ এপ্রিল লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হলে সাময়িকভাবে উত্তীর্ণ হন ৩ হাজার ৬৩১ জন। তাদের মৌখিক পরীক্ষা শেষে এবার প্রকাশ করা হলো ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল।

জানা যায়, শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। মামুন হাজীগঞ্জ বাকিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ২০০৬ সালে প্রাথমিক বৃত্তি, ২০১২ সালে বলাখাল যোগেন্দ্র নারায়ণ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৮ পান। ২০১৪ সালে হাজীগঞ্জ মডেল কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৪.৮০ অর্জন করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে ২০২১ সালে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন।  ৪৭তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার আগে তিনি ২০২৩ সাল থেকে পশ্চিম দেশগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মামুন বিবাহিত, তার স্ত্রীও একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তবে বিসিএসের ফলাফল প্রকাশের একমাস আগে তিনি  সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার পদে উর্ত্তীন হয়েছিলেন। এর মধ্যে ৪৩ ভাইভা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেও আলোর মুখ দেখেননি। তবে হাল  ছাড়েননি তিনি।

হাসান আল মামুন  বলেন, আমি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ, যিনি আমাকে এই সাফল্য অর্জনের তৌফিক দিয়েছেন। পরিবারের নিরলস সহযোগিতা আর অনুপ্রেরণাই আমাকে এখানে এনেছে। আল্লাহর রহমতে আমি বিসিএস ক্যাডার হয়েছি। এটা আমার জন্য ভীষণ পাওয়া। আমি সবসময়ই চেষ্টা করেছি ভালো কিছু করার জন্য। সবকিছুর পেছনে আমার পরিবার আমাকে সাহায্য করেছে। আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। আমার বাবা মুদি দোকানে ব্যবসা করতেন, তিনি ২০২২ মারা গেছেন।  আমার এ সাফল্যের পেছনে আমার মা-ভাই। তারা আমাকে সব ধরনের সহযোগিতা করতেন। তাদের কারণে আজকে আমি বিসিএস ক্যাডার হয়েছি।

তিনি আরও বলেন, বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার স্বপ্ন সবারই থাকে। তবে বর্তমান সময়ে অনেক কঠিন। তাই তরুণ প্রজন্মর মেধাবীদের এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার কাছাকাছি চাকরিও খুঁজতে হবে। তাহলে তারা এগিয়ে যেতে পারে। 

মা মমতাজ বেগম  বলেন, ছেলেকে বিসিএস পরীক্ষা অংশগ্রহণ করার জন্য নানাভাবে সহযোগিতা করেছি। আমার স্বপ্ন ছিল সে শিক্ষাগত ক্যাটাগরিতে চান্স পাক। সেই স্বপ্ন আজ পূরণ হলো। আমাদের ফ্যামিলির বেশিরভাগই মানুষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ওই আবেগের জায়গা থেকেই আমার স্বপ্ন আমার ছেলে শিক্ষা ক্যাডার হবে। আল্লাহ স্বপ্ন পূরণ করেছেন। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।

তার এই অসাধারণ সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। হাসান আল মামুনের অর্জন চাঁদপুরের নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

আনোয়ারুল হক/এএমকে