বিজ্ঞাপন

পটুয়াখালীতে টানা পাঁচ দিনের বৃষ্টিতে জনদুর্ভোগ, ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল

পটুয়াখালীতে টানা পাঁচ দিনের বৃষ্টিতে জনদুর্ভোগ, ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল

মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে পটুয়াখালীসহ উপকূলীয় জনপদে টানা পাঁচ দিন ধরে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। কখনও গুঁড়ি গুঁড়ি, আবার কখনও ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। টানা বৃষ্টির কারণে জেলার নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে।

পটুয়াখালী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে আজ বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৭০ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী কয়েকদিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন সড়কে পানি জমে, যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। বিশেষ করে বাজার, অফিস-আদালত ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেক দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষ বৃষ্টির কারণে কাজে যেতে না পেরে আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

কলাপাড়ার অটোরিকশা চালক মো. জাহিদ হোসেন বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে যাত্রী অনেক কম। সারাদিন গাড়ি চালিয়েও ঠিকমতো ভাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। সংসার চালানো কষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এদিকে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে উপকূলীয় এলাকার খাল-বিল ও নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় বসতবাড়ি ও কৃষিজমিতে পানি প্রবেশ করেছে। এখনও ঘন কালো মেঘে ঢাকা রয়েছে উপকূলের আকাশ। মাঝে মাঝেই দমকা হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি হচ্ছে।

অপরদিকে, বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর উত্তাল রয়েছে। সমুদ্রে স্বাভাবিকের তুলনায় ঢেউয়ের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর সাগরে অবস্থানরত জেলেরা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উপকূলীয় এলাকায় আরও বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত এবং দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ পরিস্থিতিতে পায়রা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এছাড়া গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার ট্রলার ও নৌযানকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত আবহাওয়ার সর্বশেষ বুলেটিন অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

এ বিষয় জেলা আবহাওয়া অফিস ও স্থানীয় প্রশাসন জনগণকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে নদী ও সমুদ্রে না যাওয়া, নিচু এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার এবং আবহাওয়া সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এসএম আলমাস/আরকে