টানা ভারী বর্ষণের কারণে বান্দরবানে পাহাড়ধস ও বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বান্দরবান পৌরসভার কালাঘাটা ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বড়ুয়ার টেক এলাকায় তিন দফা পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনবার পাহাড়ধসের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পাহাড়ধসে স্থানীয় বাসিন্দা নিপন বড়ুয়ার পাকা ঘরের একাংশ এবং রণধীর বড়ুয়ার একটি কাঁচা ঘর সম্পূর্ণভাবে মাটিচাপা পড়ে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত তাদের সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেনি কিংবা ক্ষয়ক্ষতির আনুষ্ঠানিক খোঁজখবর নেওয়া হয়নি।
এদিকে টানা বৃষ্টিতে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতিরও অবনতি হয়েছে। বান্দরবান আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ রিঙ্কু দে জানান, গতকাল সকাল ১০টা থেকে আজ বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৩৯৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা অতি ভারী বৃষ্টিপাত হিসেবে বিবেচিত।
তিনি আরও জানান, গত ৫ জুলাই থেকে আজ বিকেল ৩টা পর্যন্ত জেলায় মোট ৬০৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন দিন এই ধরনের বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব জানান, বান্দরবান সদর পয়েন্টে সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার ৯২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একইভাবে লামা উপজেলার মাতামুহুরী নদীর পানিও বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ইতিমধ্যে রুমা উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বান্দরবান পৌরসভার নদীতীরবর্তী এলাকা ছাড়াও শহরের আর্মি পাড়া, শেরেবাংলা নগর, ইসলামপুর, বরিশাল পাড়া, হাফেজঘোনা এবং বালাঘাটার কয়েকটি এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে বলে জানা গেছে।
রুমা ও থানচি উপজেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হলেও বান্দরবান-রোয়াংছড়ি সীমানায় একটি কালভার্ট ডুবে গিয়ে রোয়াংছড়ির সঙ্গে বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
বান্দরবান জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মো. আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, আজ দুপুর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় এক হাজার বন্যাদুর্গত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। এ ছাড়াও জেলা প্রশাসন সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করেছে।
জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, আবহাওয়া অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পাহাড়ধস ও বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা ও নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
আরএআর
