স্ত্রীকে হত্যা করে মরদেহ বিছানার ওপর রেখে সন্তান নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন স্বামী মোহাসিন মাতুব্বর। তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মুন্সীগঞ্জ আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শফিকুল ইসলামের আদালতে তিনি দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ কোর্ট পুলিশের জিআরও মফিজউদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি শেষে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন বিচারক।
এর আগে মুন্সীগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলার বালিগাঁও গ্রামে স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যা করে মরদেহ রেখে সন্তান নিয়ে পালিয়ে যান মোহাসিন মাতুব্বর। পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলা থেকে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার মোহাসিন মাতুব্বর পূর্ব বালিগাঁও জামে মসজিদের ইমাম ও গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বাহারা গ্রামের ওমর আলী মাতুব্বরের ছেলে।
গত সোমবার টংগিবাড়ী উপজেলার পূর্ব বালিগাঁও এলাকায় ভাড়া বাসা থেকে আসমা আক্তার নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মোহাসিন মাতুব্বরের স্ত্রী। ঘটনার পর চার বছর বয়সী কন্যাসন্তানকে নিয়ে পালিয়ে যান মোহাসিন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই শামীম বাদী হয়ে টংগিবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন।
পুলিশ জানায়, সোমবার (৬ জুলাই) রাত ৮টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে টংগিবাড়ী থানা পুলিশ পূর্ব বালিগাঁও এলাকার একটি টিনশেড ভাড়া বাসা থেকে আসমা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে। মোহাসিন মাতুব্বর গত ছয় মাস ধরে পূর্ব বালিগাঁও জামে মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। প্রায় চার মাস ধরে তিনি স্ত্রী আসমা ও চার বছর বয়সী কন্যাকে নিয়ে ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন। আসমা স্থানীয় শিশুদের বাসায় গিয়ে আরবি পড়াতেন।
ব.ম শামীম/আরএআর
