বিজ্ঞাপন

৩২ বছরের শিক্ষকতার ইতি, শেষ কর্মদিবসে কান্নায় ভেঙে পড়লেন প্রধান শিক্ষক

৩২ বছরের শিক্ষকতার ইতি, শেষ কর্মদিবসে কান্নায় ভেঙে পড়লেন প্রধান শিক্ষক

গলায় ফুলের মালা, হাতে সম্মাননা স্মারক ও নানা উপহার নিয়ে সুসজ্জিত একটি মাইক্রোবাসে করে বাড়ি ফিরলেন পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার তেপুকুরিয়া ইউনিয়নের মনিরাম জোত হরদেব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম। ৩২ বছরের শিক্ষকতা জীবনের শেষ কর্মদিবসে তাকে এমন রাজকীয় বিদায় জানান সহকর্মী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন রফিকুল ইসলাম।  

বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তার অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। দীর্ঘদিন নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে শিক্ষকতা শেষে অবসরে যাওয়ায় তাকে সম্মাননা স্মারক, ফুলেল শুভেচ্ছা ও বিভিন্ন উপহার দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম। সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আজমল আজাদের সভাপতিত্বে এতে  বক্তব্য দেন বেংহাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাহেব আলী, উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের প্রশিক্ষক একেএম সারওয়ার জাহান আহমেদী, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইউনুস আলী এবং ময়দানদিঘী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনামুল হক প্রমুখ।

আলোচনা সভা শেষে বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী, অভিভাবক, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা বিদায়ী প্রধান শিক্ষককে ফুলের মালা, সম্মাননা স্মারক ও উপহার দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

বিদায়ের মুহূর্তে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে সড়কে অপেক্ষমাণ মাইক্রোবাস পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা দুই সারিতে দাঁড়িয়ে শিক্ষককে বিদায় জানান। তিনি হেঁটে যাওয়ার সময় শিক্ষার্থীরা তার ওপর ফুল ছিটিয়ে দেয়। পরে সুসজ্জিত মাইক্রোবাসে করে তাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রফিকুল ইসলাম ১৯৯৪ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। ৩২ বছর এক মাস পাঁচ দিনের কর্মজীবনের মধ্যে শেষ আট বছর তিনি মনিরাম জোত হরদেব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বে বিদ্যালয়টি এলাকার একটি মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী বলয় বলে, স্যার আমাদের খুব আদর করতেন, ভালো করে পড়ালেখা করাতেন। স্যার চলে যাচ্ছেন, এটা ভাবতেই খুব খারাপ লাগছে। আমরা স্যারের সুস্থতা কামনা করি।

বিদায়ী প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, আজ আমার চাকরিজীবনের শেষ কর্মদিবস। সহকর্মীরা যে বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন, সেখানে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও কর্মকর্তাদের উপস্থিতি আমাকে অভিভূত করেছে। বিদায় সব সময়ই বেদনাদায়ক। তবে এত মানুষের ভালোবাসা ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাকে মুগ্ধ করেছে। সবার কাছে দোয়া চাই।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, রফিকুল ইসলামের অবসর উপলক্ষ্যে যে সম্মানজনক বিদায়ের আয়োজন করা হয়েছে, তা সত্যিই ব্যতিক্রমী। তিনি একজন দক্ষ, কর্মঠ ও দায়িত্বশীল প্রধান শিক্ষক ছিলেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নে তার অবদান উল্লেখযোগ্য। তার শূন্য পদে দ্রুত একজন প্রধান শিক্ষক পদায়নের চেষ্টা করা হবে। তার সুস্বাস্থ্য ও সুন্দর অবসরজীবন কামনা করছি।

নুর হাসান/আরএআর