বিজ্ঞাপন

২৪ ঘণ্টায় ২৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টি, সুনামগঞ্জে বাড়ছে বন্যার শঙ্কা

২৪ ঘণ্টায় ২৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টি, সুনামগঞ্জে বাড়ছে বন্যার শঙ্কা

টানা অতি ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জে আবারও দেখা দিয়েছে বন্যার শঙ্কা। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ২৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এতে জেলার প্রায় সব নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর ১টার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কুশিয়ারা নদীর মারকুলি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সময়ে সুরমা নদীর পানিও গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্টে বিপৎসীমার মাত্র ৫৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ২৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বর্ষণ এবং ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে সুরমা, কুশিয়ারা, রক্তি, জাদুকাটা, বৌলাইসহ জেলার অধিকাংশ নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে কুশিয়ারা নদীর মারকুলি পয়েন্টে পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। অন্যদিকে সুরমা নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় ষোলঘর পয়েন্টের পরিস্থিতিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এদিকে টানা অতিভারী বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জ শহরের কাজীরপয়েন্ট, বড়পাড়া, তেঘরিয়াসহ বিভিন্ন নিচু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণের কারণে বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর ও দোয়ারাবাজার উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল জলাবদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

শহরের কাজীরপয়েন্ট এলাকার ব্যবসায়ী রাজু আহমেদ বলেন, গতকাল থেকে টানা বৃষ্টিতে এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে গেছে। এভাবে বৃষ্টি হলে দোকানে পানি ঢুকে যেতে পারে। খুব চিন্তায় আছি। শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার না করেল আমাদের আরো ক্ষতি হতে পারে। 

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, পাহাড়ি ঢল নামার পর থেকেই নিচু এলাকার সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে করে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায়ে যেতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

তাহিরপুর উপজেলার চারাগাঁও এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, বৃষ্টি আর উজানের ঢলে চারদিকে পানি বেড়েই চলছে। সীমান্তবর্তী নিচু এলাকা হওয়ায় আমরা আতঙ্কে আছি। যদি আরও কয়েক দিন এমন বৃষ্টি হয়, তাহলে ঘরবাড়ি ও গবাদিপশু নিয়ে নিরাপদ স্থানে যেতে হতে পারে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দুই দিন সুনামগঞ্জ এবং ভারতের মেঘালয় এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এরপর আরও দুই দিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে উজান থেকে আরও ঢল নেমে নদ-নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-২ মো. এমদাদুল হক ঢাকা পোস্টকে বলেন, বর্তমানে কুশিয়ারা নদীর মারকুলি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী দুই দিন সুনামগঞ্জ ও ভারতের মেঘালয় এলাকায় আরও অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে জেলার নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সুরমাসহ আরও কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, নদ-নদীর পানির উচ্চতা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

তামিম রায়হান/এসএইচএ