বিজ্ঞাপন

থানা হেফাজতে আসামির মৃত্যুর গুজব

বরিশালে গ্রামবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষে ৬ পুলিশসহ আহত ১২

বরিশালে গ্রামবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষে ৬ পুলিশসহ আহত ১২

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় থানা হেফাজতে থাকা এক আসামির মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও স্থানীয় গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৬ পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে আগৈলঝাড়া থানা প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের বাসিন্দা মো. ছিদ্দিক ফকিরের ছেলে রিয়াজ ফকিরকে একটি চুরির মামলায় বুধবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বুধবার রাতে থানা হাজতে থাকা অবস্থায় রিয়াজ নিজেই লোহার গেটের সঙ্গে মাথায় আঘাত করে অচেতন হয়ে পড়েন। থানা হাজতের সিসিটিভি ফুটেজেও এমন দৃশ্য দেখা গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে রাত ১১টার দিকে তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে গভীর রাতে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

রিয়াজের দীর্ঘ সময় জ্ঞান না ফেরায় বৃহস্পতিবার বিকেলে এলাকায় তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রিয়াজের আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর শতাধিক মানুষ মিছিল নিয়ে আগৈলঝাড়া থানায় যান। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা এবং পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

থানা পুলিশ জানায়, বিক্ষুব্ধরা থানায় ঢুকে ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুল হালিমকে মারধর করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন রিয়াজের মা নাছরিন বেগম (৫০), বোন শারমিন আক্তার (২৮), মমতাজ বেগমসহ (৪৭) অন্তত ছয়জন স্থানীয় বাসিন্দা।

এছাড়া পুলিশের এএসআই আব্দুল হালিম, কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আলামিন হোসেন ও মেহেদী হাসান আহত হয়েছেন।

গুরুতর আহত এএসআই আব্দুল হালিমকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত শারমিন আক্তার ও মমতাজ বেগম আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গ্রেপ্তার আতঙ্কে আরও কয়েকজন আহত ব্যক্তি গোপনে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বরিশাল থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

রিয়াজ ফকিরের মা নাছরিন বেগম বলেন, আমার ছেলেকে কোনো অপরাধ ছাড়াই পুলিশ আটক করে মারধর করেছে। সে এখন গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 

আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ মাসুদ খান বলেন, চুরির মামলায় রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। থানা হাজতে থাকাকালে সে নিজেই মাথায় আঘাত করে অচেতন হয়ে পড়ে। এরপর তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে পরিকল্পিতভাবে তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে শতাধিক লোক থানায় হামলা চালিয়ে পুলিশ সদস্যদের মারধর করে। হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসএইচএ