বিজ্ঞাপন

চাকরির বদলে মাদক-জুয়া উন্মুক্ত করা হয়েছে : হাসনাত আব্দুল্লাহ

চাকরির বদলে মাদক-জুয়া উন্মুক্ত করা হয়েছে : হাসনাত আব্দুল্লাহ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, সরকারের কথা ছিল শিক্ষিত বেকার যুবকদের হাতে চাকরি দেওয়ার। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, চাকরির পরিবর্তে মাদক ও জুয়া উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক মোড়ে মোড়ে, দোকানে দোকানে অনলাইন জুয়া ও মাদকে সয়লাব হয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় ফেনীর সোনাগাজী পৌর চত্বরে গণভোট বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান ও সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, যে চাকরির আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গণঅভ্যুত্থান সূচিত হয়েছিল, আমার সেই বেকার ভাইদের কর্মসংস্থান এখনো নিশ্চিত করতে পারিনি। নতুন সার্কুলার দেওয়া হচ্ছে না। দলীয় বিবেচনায় চাকরি দেওয়া হবে বলে এই সার্কুলারগুলো বন্ধ করে রাখা হয়েছে। বেকারদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ক্ষমতায় গেলে এক কোটি কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবেন। কিন্তু গত ছয় মাসে এক কোটি দূরে থাক, ১০ লাখ দূরে থাক, একটি কর্মসংস্থানও নিশ্চিত করতে পারেননি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকা মাদকের সবচেয়ে বড় হাব। তার নিজের এলাকা মাদক সিন্ডিকেটের উর্বর ক্ষেত্র। পাছে লোকে বলে, মাদকের সঙ্গে তার কোনো ধরনের প্রশ্রয় আছে কি না-এটি আমাদের ভেবে দেখা উচিত। প্রত্যেক সমাজে, ঘরে ঘরে যেভাবে মাদক ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে কোনো সুস্থ তরুণ প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আপনারা আগে বলতেন ঈদের পর আন্দোলন। কিন্তু কোন ঈদের পর, সেই ঈদ বাংলার জনগণ আর দেখতে পায়নি। বাংলার ছাত্রসমাজ ও জনগণ ঈদের পরের আন্দোলনের জন্য বসে থাকেনি। তারা নিজেরাই রাস্তায় নেমে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছে। সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, ঈদের পর বিশেষ অভিযান হবে। কিন্তু কোন ঈদের পর, সেটি তিনি বলেননি। রোজার ঈদ, কোরবানির ঈদ গেলেও মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান দেখা যায়নি। কোন ঈদের পরে, তা স্পষ্ট না করলে ২৪-এর মতো দেশের ছাত্র-জনতা আবারও রাস্তায় নেমে আসবে, বাংলার ঘরে ঘরে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

এনসিপির এই নেতা বলেন, অনেকে বলে আগে আমরা রিকশায় চলতাম, এখন গাড়িতে চলি। কিন্তু তারা হয়তো ভুলে গেছে, তারা আগে রিকশা চালাত, এখন প্রাডো গাড়ি চালায়। নিজেদের প্রশ্ন করা উচিত, তারা যখন ধানক্ষেতে ঘুমাতো, ঢাকায় রিকশা চালাতো-এই কয়েক বছরের মধ্যে কীভাবে তারা নিজের গাড়ি কিনেছে।

চাঁদাবাজি-দুর্নীতির পরিবর্তন হয়নি উল্লেখ করে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, মামলা বাণিজ্য, সমাজে বিভাজন সৃষ্টি ও বালুমহাল দখল-বাণিজ্য করে যে অর্থ তারা আয় করেছে, তা নিয়ে নিজেদের প্রশ্ন করা উচিত। আমরা চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির পাশাপাশি চাঁদাবাজ-দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদেরও পরিবর্তন চেয়েছিলাম। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলো- এসব কেবল হাতবদল হয়েছে। সোনাগাজীতে আগে একটি পক্ষ বালুর ব্যবসা করতো, এখন সেটি আরেকটি পক্ষ করছে। আগে একটি পক্ষ মামলা বাণিজ্য করেছে, এখন আরেকটি পক্ষ করছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ নিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা চালিয়েছিল। আমরা সেই প্রোপাগান্ডা বিশ্বাস করতে চাই না। কিন্তু বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে বিদ্যুতের পরিবর্তে জনগণের হাতে হারিকেন ও মোমবাতি ধরিয়ে দিয়েছে। আগে মাঝেমধ্যে বিদ্যুৎ যেত, এখন মাঝেমধ্যে বিদ্যুৎ আসে। সংসদে দাঁড়িয়ে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ নাকি যায় না, সবসময় থাকে। মাননীয় মন্ত্রী, জনগণের কাছে আসুন। এসি রুমে বসে, এসি গাড়িতে চলে, এসি বাসায় থেকে জনগণের কষ্ট বোঝা যায় না। আপনার বাসা, সংসদ ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ে বিদ্যুৎ যায় না। কিন্তু বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ যায়।

 হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ফেনীর ত্রাণ চুরির অভিযোগও আমাদের বিরুদ্ধে দেওয়া হয়। মসজিদের জন্য টাকা তুললে সেটি কি নিজে রড-সিমেন্ট কিনে খরচ করে, নাকি মসজিদ কমিটির সভাপতির কাছে দেওয়া হয়? ঠিক একইভাবে বন্যার সময় সারা দেশ থেকে মানুষ আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে ১২ কোটিরও বেশি টাকা দিয়েছে। আমরা টাকা উঠালেও লজিস্টিক সাপোর্ট ছিল না। আমরা এই টাকা কয়জনকেই বা দিতাম? যদি তখন কাউকে এ টাকা দিতাম, তাহলে স্বজনপ্রীতি ও টাকা খেয়ে ফেলার অভিযোগ উঠত। এজন্য এ টাকা আমরা দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু যাদের চোখ ও মনে মোহর মেরে দেওয়া হয়েছে, যারা অশিক্ষিত, তারা এ হিসাব দেখবে না। কিন্তু যাদের মেধা আছে, জ্ঞান-বুদ্ধি আছে, শিক্ষিত-তারা ঠিকই জানেন, এ বন্যার টাকার এক টাকা পর্যন্ত হিসাব দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে আপনারা বলতেন, আমাদের সরকার আমাদের বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত করবে না। কিন্তু এখন সরকার, পুলিশ, ডিজিএফআই, দুর্নীতি দমন কমিশন-সবই তো আমাদের? তাহলে কেন তদন্ত করছেন না? সবসময় বলে আসছি, আমাদের বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতি থাকলে প্রমাণসাপেক্ষে হাজির করুন। এক টাকার দুর্নীতির প্রমাণও আপনারা করতে পারবেন না।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, যুগ্ম সদস্যসচিব আকরাম হোসেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুজা উদ্দিন, যুবশক্তির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম, ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবু বকর মজুমদার, সদস্যসচিব শাহ ওয়ালী উল্লাহ মানিক, দলের ঘোষিত সোনাগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ও সাংগঠনিক সম্পাদক সুজা উদ্দিন প্রমুখ। 

এনসিপির ফেনী জেলা আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম সৈকতের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এনসিপির সোনাগাজী উপজেলা আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুন।

এর আগে ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘জুলাই পদযাত্রা-২০২৬’-এ অংশ নেন এনসিপি নেতারা। এর মাধ্যমে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের কর্মসূচির সূচনা হয়। কর্মসূচি শুরুর আগে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ দুইজনের কবর জিয়ারত করেন এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এনসিপি নেতারা।

এ সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

তারেক চৌধুরী/আরএআর