বিজ্ঞাপন

শেরপুরে দ্রুত বাড়ছে নদ-নদীর পানি, নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা

শেরপুরে দ্রুত বাড়ছে নদ-নদীর পানি, নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা

টানা বৃষ্টি ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে জেলার নিম্নাঞ্চলে সাময়িক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল থেকে শেরপুরের পাহাড়ি সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল শুরু হয়, যা সারাদিন অব্যাহত থাকে। সকালে পানির পরিমাণ কম থাকলেও দুপুরের পর থেকে তা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে।

শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বিকেল ৩টার তথ্যের বরাত দিয়ে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় শেরপুর পয়েন্টে ১৩৬ দশমিক ৫০ মিলিমিটার, নালিতাবাড়ী পয়েন্টে ১১০ মিলিমিটার এবং নাকুগাঁও পয়েন্টে ১০৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ফলে চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ২০৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে জেলার অন্যান্য নদীর পানিও ক্রমাগত বাড়ছে।

পাউবো আরও জানায়, ভারতের মেঘালয় অঞ্চলে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাবে শেরপুরের নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে নাকুগাঁও পয়েন্টে ভোগাই নদীর পানি সকালে বিপৎসীমার ১৬৪ সেন্টিমিটার নিচে থাকলেও বিকেলে তা বেড়ে ৬৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একইভাবে নালিতাবাড়ী পয়েন্টে সকালে বিপৎসীমার ১৫২ সেন্টিমিটার নিচে থাকা পানি সন্ধ্যার দিকে বেড়ে বিপৎসীমার ৪৩ সেন্টিমিটার নিচে পৌঁছেছে।

চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতে ভাঙন ও বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আতঙ্ক রয়েছে।

এদিকে ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশি নদীর পানি বেড়ে উপজেলা সদর বাজারে ঢুকে পড়েছে। সোমেশ্বরী নদীর পানি বৃদ্ধিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। এছাড়া পাহাড়ি ঢলে শ্রীবরদী উপজেলার রানিশিমুল ইউনিয়নসহ গোবিন্দপুর, চক্রপুর ও বড়ইকুচি এলাকায় পানি ঢুকেছে।

শ্রীবরদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. হাসিব-উল-আহসান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার বিতরণ শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত ৭০টি পানিবন্দি পরিবারের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী বলেন, উজানে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে শেরপুরে নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃষ্টিপাত ইতোমধ্যে কিছুটা কমেছে। উজানে বৃষ্টি না হলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা কম। আমরা সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। জরুরি প্রয়োজনে সহায়তা দেওয়া হবে।

শেরপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শাকিল আহমেদ বলেন, সব উপজেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি সক্রিয় রয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। কোথাও পরিস্থিতির অবনতি হলে জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের মেঘালয় অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

মো. নাইমুর রহমান তালুকদার/এসএইচএ