বিজ্ঞাপন

কুশিয়ারার পানি বৃদ্ধি, সুনামগঞ্জে ২০ গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

কুশিয়ারার পানি বৃদ্ধি, সুনামগঞ্জে ২০ গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। একই সঙ্গে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়ায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) কুশিয়ারা নদীর মারকুলি পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় রানীগঞ্জ বাজারে হাঁটু পানি জমে যায়। পাশাপাশি রানীগঞ্জ ও পাইলগাঁও ইউনিয়নের নদীতীরবর্তী বেশ কয়েকটি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, গত দুই দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে কুশিয়ারা নদীর পানি বেড়ে উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের জালালপুর, খানপুর, আলীপুর, নতুন কসবা, কাতিয়া, পাইলগাঁও, আলাগদি, রানীগঞ্জ ইউনিয়নের রানীগঞ্জ বাজার, কদরপাড়াসহ প্রায় ২০টি গ্রামের কিছু কিছু এলাকায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। এতে যাতায়াতের ভোগান্তিতে পড়েছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ লক্ষাধিক মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত দুই দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের জালালপুর, খানপুর, আলীপুর, নতুন কসবা, কাতিয়া, পাইলগাঁও, আলাগদিসহ রানীগঞ্জ ইউনিয়নের রানীগঞ্জ বাজার, কদরপাড়া এবং আশপাশের প্রায় ২০টি গ্রামের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে। এতে যাতায়াতে ভোগান্তিতে পড়েছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ লক্ষাধিক মানুষ।

এদিকে পাইলগাঁও ইউনিয়নের বাংলা বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে যাওয়ায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বিপাকে পড়েছেন কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

রানীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী আবু হাসান মিলন বলেন, কুশিয়ারা নদীর পানি বাড়ায় বিভিন্ন সড়ক ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। বাজারের সড়কও পানিতে তলিয়ে গেছে। যাতায়াতে চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা।

ব্যবসায়ী আকরাম হোসেন বলেন, বাজারে এখন হাঁটু পানি। প্রতিবছরই কুশিয়ারা নদীর পানি বাড়লে বাজারের ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

পাইলগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নজমুদ্দিন বলেন, কুশিয়ারার পানি বৃদ্ধিতে জগন্নাথপুর-বেগমপুর সড়কের বিভিন্ন অংশ ডুবে যাওয়ায় যান চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি বাংলা বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি গ্রামীণ সড়ক এবং নিম্নাঞ্চলের কয়েক এলাকায় পানি উঠেছে।

রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ ছদরুল ইসলাম বলেন, কুশিয়ারার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রানীগঞ্জ বাজারের একাংশ প্লাবিত হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীরা দুর্ভোগে পড়েছেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহাবুবুল আলম বলেন, বিদ্যালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় বিকল্প হিসেবে পাশের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অস্থায়ীভাবে পাঠদান চালানো হচ্ছে। বিষয়টি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসলাম উদ্দিন বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং উপজেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু রয়েছে।

তামিম রায়হান/এসএইচএ