বিজ্ঞাপন

টানা বর্ষণে রাঙামাটিতে ৩০ গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি প্রায় ২০ হাজার মানুষ

টানা বর্ষণে রাঙামাটিতে ৩০ গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি প্রায় ২০ হাজার মানুষ

টানা ভারী বর্ষণে রাঙামাটির সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। জেলার অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় ৭ হাজার পরিবারের অন্তত ২০ হাজার মানুষ। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আরও কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বেলা ১২টা পর্যন্ত আগের ৬০ ঘণ্টায় রাঙামাটিতে ৪৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে রাঙামাটি আবহাওয়া অফিস। এর মধ্যেই আবার নতুন করে ৯ জুলাই থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত ২০০ থেকে ৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত ও ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বাঘাইছড়ি উপজেলায়। এরই মধ্যে বাঘাইছড়ি উপজেলায় ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়েছে। সেখানে ১৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৮০৭ পরিবারের ৩ হাজার ২৪৮ জন আশ্রয় নিয়েছেন। অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঘাইছড়ি-দীঘিনালা, লংগদু-দীঘিনালা সড়কের বিভিন্ন অংশ এবং বাঘাইছড়ি উপজেলার বঙ্গলতলী ইউনিয়নের করেঙ্গাতলী ও পৌর এলাকার উগলছড়ি সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। 

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমেনা মারজান জানান, বাঘাইছড়িতে ভারী বর্ষণের কারণে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলায় মোট ১৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে প্রায় ৩ হাজার ২৪৮ জন অবস্থান করছেন।

অন্যদিকে বিলাইছড়ি উপজেলার কোংড়াছড়ি, তক্তানালা, এগুইজ্জেছড়ি, ফারুয়া বাজারসহ নিম্নাঞ্চলের অনেক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সেখানে ৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১২২ জন লোক আশ্রয় নিয়েছেন। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত বাসিন্দাদের দুপুর ও রাতে রান্না করা খাবার এবং সকালে পাউরুটি ও কলা সরবরাহ করা হচ্ছে।

এদিকে ভারী বর্ষণের কারণে বাঘাইছড়ি-মারিশ্যা-দীঘিনালা সড়কের প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকায় পাহাড়ধস দেখা দেওয়ায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এছাড়া রাঙামাটির মানিকছড়ি এলাকার সাপছড়িতে আকস্মিক পাহাড়ধসে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে আড়াই ঘণ্টা পর দুপুর আড়াইটার দিকে সড়কের এক পাশ দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত ৮টা পর্যন্ত জেলার ৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৪ হাজার ৩৯২ জন আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া জেলার বিভিন্ন জায়গায় ১০৪টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেলে জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী ও জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী বাসিন্দাদের বর্তমানেও নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়ার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো মাঠে কাজ করছে।

মোস্তফা কামাল রাজু/এমএসএ