রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের সিটি স্ক্যান মেশিনটি প্রায় তিন মাস ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সেবা বন্ধ থাকায় রোগীদের বাধ্য হয়ে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অতিরিক্ত খরচে সিটি স্ক্যান করাতে হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মেশিনটি সচল করতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে তারা আশা করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের আগস্টে ঢাকার আরপি এন্টারপ্রাইজ রামেক হাসপাতালে সিটি স্ক্যান মেশিনটি সরবরাহ করে। সাত বছরের ওয়ারেন্টি থাকলেও চালুর প্রায় সাড়ে চার বছরের মাথায় এতে ত্রুটি দেখা দেয়। এরপর থেকে মেশিনটি পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। ফলে সিটিস্ক্যান সেবা নিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয় রোগী ও তাদের স্বজনদের। এখন বেসরকারি হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অতিরিক্ত টাকায় রোগীর সিটি স্ক্যান করাতে হচ্ছে।
এদিকে, সিটি স্ক্যান রুমের দরজায় কাগজে সাময়িক বন্ধের নোটিশ ঝুলানো হয়েছে। তার প্রায় তিন মাস কেটে গেলেও সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা যায়নি কয়েক কোটি টাকার মেশিনটি।
রোগীর স্বজন সানজিদা খাতুন বলেন, হাসপাতালে সিটি স্ক্যান বন্ধ থাকায় বাইরে করতে হচ্ছে। সরকারি হাসপাতালে করলে কম খরচে হতো, কিন্তু এখন বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে অন্তত ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে।
সড়ক দুর্ঘটনায় আহত মনতাজ আলীর স্বজন রজব আলী বলেন, চিকিৎসক সিটি স্ক্যান করতে বলেছেন। কিন্তু হাসপাতালের মেশিন নষ্ট থাকায় বাইরে নিতে হচ্ছে। রোগীকে স্থানান্তর করাও কষ্টকর, আবার অতিরিক্ত খরচও হচ্ছে।
রামেক হাসপাতালে রাজশাহী বিভাগের পাশাপাশি খুলনার চুয়াডাঙ্গা, আলমডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলার রোগীরা উন্নত চিকিৎসা নিতে আসেন। সিটিস্ক্যান সেবা বন্ধ থাকায় তাদেরও দুর্ভোগ বাড়ছে।
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস বলেন, অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে চাপের কারণে সিটি স্ক্যান মেশিনটি বিকল হয়েছে। সরবরাহকারী ও মেরামতকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। দ্রুত মেশিনটি সচল করার চেষ্টা চলছে।
শাহিনুল আশিক/এসএইচএ
