বিজ্ঞাপন

বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত, পানিবন্দি হাজারো পরিবার

বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত, পানিবন্দি হাজারো পরিবার

টানা অতি ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট বান্দরবানের বন্যা পরিস্থিতি এখনো আগের মতো আছে। কিছু নিম্নাঞ্চল থেকে পানি কমতে শুরু করলেও জেলা শহর ও লামার বিভিন্ন এলাকায় এখনো কয়েক ফুট পানি রয়েছে। সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, রোগীসহ সাধারণ মানুষ।

গত ৫ জুলাই থেকে টানা অতিভারী বর্ষণের পর বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দিনভর জেলাজুড়ে থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় কিছু নিম্নাঞ্চল থেকে পানি কমতে শুরু করেছে।

তবে, জেলা শহরের আর্মিপাড়া, হাফেজঘোনা, বালাঘাটা, কালাঘাটা, ইসলামপুর, ক্যাচিংঘাটা এবং লামা পৌরসভার প্রধান বাজার, চেয়ারম্যান পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় এখনো ৪-৫ ফুট পানি রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় পাহাড়ধস এবং গাছ ভেঙে পড়ে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। সড়কপথ বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থী ও অসুস্থ রোগীসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বান্দরবান আবহাওয়া অধিদপ্তরের ইনচার্জ রিঙ্কু দে জানান, বান্দরবানে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে আজ শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যা অতি ভারী বৃষ্টিপাত। ৫ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ১০ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত ১২০ ঘণ্টায় সর্বমোট বৃষ্টিপাত হয়েছে ৮৯১ মিলিমিটার।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব জানান, সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীতে পানি কিছুটা কমলেও এখনও বিপৎসীমার এক থেকে দেড় ফুট ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার কারণে লামা বাজারে বুধবার বিকেলে হঠাৎ পানি ঢুকে পড়ায় ব্যবসায়ীরা মালামাল সরাতে পারেননি। ফলে লাখ লাখ টাকার সম্পদহানি হয়েছে। বন্যার কারণে বান্দরবান-কেরানিহাট সড়কের বাজালিয়া পয়েন্টের রাস্তা ২ ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সঙ্গে যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন ছিল।

রুমায় বিদ্যুৎ ও সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় অচল অবস্থা বিরাজ করছে। জেলার ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ইতোমধ্যে ২ হাজার ১৭৩ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। জেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও বিভিন্ন সংস্থার উদ্যোগে ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সেনাবাহিনী, বিজিবি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষ এবং বিভিন্ন ছাত্রাবাসে আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। 

এদিকে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বন বিভাগের উদ্যোগে ৯ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষমেলা স্থগিত করা হয়েছে।

এসএইচএ