বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম বলেছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। এ দাবিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও নাগরিক সংগঠন ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন করে আসছে।
সংসদে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। নির্বাচনের আগে বর্তমান সরকার প্রধান নিজেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অথচ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। সরকারের এই সিদ্ধান্ত রংপুর অঞ্চলের মানুষ হতাশ হয়েছেন।
শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে আগামীকাল শনিবার রংপুর জিলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হবে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ। প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এই সমাবেশের সার্বিক প্রস্তুতি তুলে ধরেন।
সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় নির্বাচনের আগে রংপুরে এসে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করার পর জনসভায় যোগ দিয়ে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনগণের সমর্থন কামনা করেছিলেন। কিন্তু নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সরকার গণভোট-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল করেছে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। এখন নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষ যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা করেছিল, তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।
কুড়িগ্রাম সীমান্তে ফেলানী হত্যাসহ সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরে অবিলম্বে ভারতীয় আগ্রাসন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং অবৈধ পুশ-ইন প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের প্রতি তিনি দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও হয়রানি নিরসনের আহ্বান জানান।
এসময় প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী, কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম, রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী, মহানগর জামায়াতে ইসলামীন আমির এটিএম আজম খান, সেক্রেটারি কে এম আনোয়ারুল হক কাজল, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রংপুর জেলা আহ্বায়ক আল মামুন, মহানগরের সদস্য সচিব আব্দুল মালেক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস রংপুর মহানগর সভাপতি ইব্রাহিম খলিল, এবি পার্টির রংপুর মহানগর সাধারণ সম্পাদক মাহবুবার রহমান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির রংপুর মহানগর সভাপতি শামসুদ্দিন রাজা এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ এম. শরিফুল ইসলামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
শনিবারের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এতে সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলী আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সোবহানী, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান। এছাড়া ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় নেতৃবৃন্দ সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন।
রংপুর বিভাগের আট জেলার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় প্রস্তুতি সভা, গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সমাবেশকে কেন্দ্র করে রংপুর নগরীতেও ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থান থেকে আগত অংশগ্রহণকারীদের সুবিধার্থে মাঠের অবকাঠামো, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন করা হয়েছে।
১১ দলীয় ঐক্য আশা করছে, রংপুর বিভাগের আট জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে বিভাগীয় সমাবেশ উত্তরাঞ্চলের মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবিতে এক ঐতিহাসিক জনসমাবেশে পরিণত হবে।
ফরহাদুজ্জামান ফারুক/এসএইচএ
