বিজ্ঞাপন

চুয়াডাঙ্গায় টানা বর্ষণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি, সড়ক ভাঙনে দুর্ভোগ

চুয়াডাঙ্গায় টানা বর্ষণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি, সড়ক ভাঙনে দুর্ভোগ

কয়েক ঘণ্টার টানা ভারী বৃষ্টিতে চুয়াডাঙ্গার শহর ও গ্রামাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে সড়ক ও কৃষিজমি। এতে একদিকে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে সড়ক ভেঙে যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত ৩টা ৪০ মিনিট থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলায় ১৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন, চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান।

টানা বৃষ্টির কারণে জেলার অধিকাংশ এলাকার নিম্নাঞ্চলে পানি জমে গেছে। বিশেষ করে কৃষি জমিতে পানি জমে বিভিন্ন ফসল ক্ষতির মুখে পড়েছে। অনেক মাঠে পানি জমে থাকায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। বৃষ্টির পানিতে শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন সড়কেও হাঁটু পানি জমে যায়। এতে চলাচলে ভোগান্তিতে পড়েন পথচারী ও যানবাহন চালকরা।

কৃষক আব্দুল করিম বলেন, রাত থেকে টানা বৃষ্টিতে মাঠের অনেক জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি দ্রুত না নামলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। অনেক কষ্ট ও খরচ করে ফসল আবাদ করেছি, এখন সবকিছু আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করছে।

আরেক কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, সবজি ক্ষেতসহ বিভিন্ন ফসল পানির নিচে রয়েছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছর এমন সমস্যায় পড়তে হয়। দ্রুত পানি সরানোর ব্যবস্থা করা গেলে কৃষকদের ক্ষতি কিছুটা কমবে।

এদিকে ভারী বৃষ্টিতে দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর কাঠালতলা থেকে কুমারীদহ গ্রামে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সড়কের একটি অংশ ভেঙে পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ওই এলাকার মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহিন বলেন, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ চলাচল করেন। রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

অন্যদিকে, দামুড়হুদা উপজেলার হাতিভাঙ্গা গ্রামের পশ্চিমপাড়া এলাকায় মাথাভাঙ্গা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীতীরের কয়েকটি বাড়ি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা বায়েজিত বলেন, বৃষ্টির কারণে মাথাভাঙ্গা নদীর পানি অনেক বেড়েছে। পানি আরও বাড়লে নদীতীরের বাড়িগুলো বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমরা খুবই দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান বলেন, রাত ৩টা ৪০ মিনিট থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলায় ১৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আফজালুল হক/এসএইচএ