বিজ্ঞাপন

নেত্রকোণায় বাড়ছে নদ-নদীর পানি, বিপৎসীমা ছুঁইছুঁই উপদাখালী

নেত্রকোণায় বাড়ছে নদ-নদীর পানি, বিপৎসীমা ছুঁইছুঁই উপদাখালী

টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার উপদাখালী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা ছুঁইছুঁই। শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার তথ্য অনুযায়ী, নদীটির পানি ঠিক বিপৎসীমার সমান্তরালে (০ সেন্টিমিটার লেভেলে) প্রবাহিত হচ্ছে।

নেত্রকোণা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, উপদাখালী ছাড়াও জেলার প্রধান সবকটি নদ-নদীর পানিই বর্তমানে ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।

পাউবোর তথ্যমতে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মগড়া নদীর পানি আটপাড়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৭৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া পূর্বধলা উপজেলার কংশ নদীর পানি জারিয়া পয়েন্টে ১.৭৩ মিটার, খালিয়াজুড়ি উপজেলার ধনু নদীর পানি ১.৪৩ মিটার এবং দুর্গাপুর উপজেলার সোমেশ্বরী নদীর পানি দুর্গাপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩.১৫ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী উপদাখালী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে এখন বিপৎসীমার ০.০ লেভেলে আছে। ভারী বৃষ্টিপাত হলেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের পাহাড়ি ঢল বা এলাকা প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি এবং কোনো জনদুর্ভোগ তৈরি হয়নি। তবে, বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘ইমার্জেন্সি কল সেন্টার’ খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। দুর্যোগ ও ত্রাণ শাখার মাধ্যমে আমরা সব ধরনের জরুরি সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত আছি।’

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সিলেট, চট্টগ্রাম, রংপুর, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের ত্রিপুরা, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাসের সতর্কবার্তায় জানানো হয়, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার সারীগোয়াইন, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা এবং ভুগাই-কংসসহ প্রধান নদীগুলোর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে কিছু কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এর ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে সাময়িকভাবে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

চয়ন দেবনাথ মুন্না/এসএইচএ