উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রমের পর আজ শুক্রবার সকালে থেকে রাত পর্যন্ত পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা এবং কৃষিজমি প্লাবিত থাকায় এখনও দুর্ভোগ কাটেনি। ধানের বীজতলা ও বিভিন্ন সবজি খেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেল ৬টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত ৯টায় একই পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ ঘণ্টায় তিস্তার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে রাতের দিকে বিপৎসীমা অতিক্রম করে। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে পানির স্তর বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার নিচে থাকলেও সন্ধ্যার পর তা দ্রুত বাড়তে থাকে। সন্ধ্যা ৬টায় বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচে পৌঁছে রাত ৯টায় বিপৎসীমা অতিক্রম করে। হঠাৎ নদীর পানি এভাবে দ্রুত ওঠানামা করায় উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
গোবর্দ্ধন এলাকার কৃষক আজিজুল মিয়া বলেন, নদীর পানি কমে গেলেও ভারী বৃষ্টিপাতের ও নিম্নাঞ্চলের জলাবদ্ধতার কারণে ধানের বীজতলাসহ বিভিন্ন সবজির আবাদ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
একই এলাকার কৃষক ইব্রাহিম মিয়া বলেন, তিস্তার পানি এখনও কানায় কানায় পূর্ণ। আমরা এখনো বাড়িতে আছি, তবে পানি আরেকটু বাড়লে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে। কয়েক দিন ধরে রাতে বৃষ্টি হচ্ছে, সেই সঙ্গে উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানিও আসছে।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার রায় বলেন, উজানে এবং দেশের অভ্যন্তরে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমরা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাটই খুলে রেখেছি।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার রায় বলেন, উজানে এবং দেশের অভ্যন্তরে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তার পানি দ্রুত বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এতে লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনও পরিস্থিতির ওপর নজরদারি জোরদার করেছে।
এসএইচএ
