টানা বৃষ্টিতে এক মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় নাজেহাল হয়ে পড়েছেন গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার হাজারো বাসিন্দা। ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং খাল দখল-ভরাটের কারণেই বারবার এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সরেজমিনে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিশ্বাসপাড়া, হরিণহাটি, পল্লী বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জলাবদ্ধতায় মানুষের দুর্ভোগের চিত্র দেখা গেছে।
টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে এসব এলাকার রাস্তাঘাট, দোকানপাট ও বসতবাড়ি এখনও পানিতে তলিয়ে রয়েছে। অনেক পরিবার ঘরের মালামাল ফেলে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। কেউ কেউ বাড়ির বারান্দা বা ছাদে অবস্থান করছেন। ব্যবসায়ীরাও আবারও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার ভোর থেকে জলাবদ্ধতায় অস্বাভাবিক দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন তারা। বিশুদ্ধ পানির সংকট, ডুবে যাওয়া সড়কে চলাচলের সমস্যা এবং শিল্পকারখানার দূষিত কালো পানি ছড়িয়ে পড়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে। অনেকের শরীরে চর্মরোগও দেখা দিয়েছে। পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় অধিকাংশ নলকূপ ও পানির পাম্পও অচল হয়ে পড়েছে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার প্রায় ৯০ শতাংশ বাসিন্দাই বিভিন্ন শিল্পকারখানার শ্রমিক। ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এলাকা ছাড়ছেন। এতে শিল্পকারখানার উৎপাদনেও প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বিশ্বাসপাড়ার মুদি দোকানি আলী হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, গত মাসের ১৬ তারিখের বৃষ্টিতে চার দিন এলাকা পানির নিচে ছিল। কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। মানুষ ঘরবাড়ি, টিভি, ফ্রিজ, আসবাবপত্র রেখে পালিয়েছে। সেই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই আবার একই পরিস্থিতি। নিয়মিত কর দিয়েও আমরা স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে পারছি না।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আজিজ ঢাকা পোস্টকে বলেন, বৃষ্টি তো দেশের অন্য জায়গাতেও হয়। কিন্তু এখানে বারবার একই দুর্ভোগ। একবার চার দিন পানিবন্দি থাকার পর মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে আবারও একই অবস্থা। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই এলাকা ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবছেন।
হরিণহাটি এলাকার মুদি ব্যবসায়ী মতিউর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, আগের জলাবদ্ধতায় প্রায় দুই লাখ টাকার মালামাল নষ্ট হয়েছে। এবারও দোকানে পানি উঠেছে। তাই মালামাল নিরাপদ রাখতে অন্যের বাড়ির ছাদে সরিয়ে রাখতে হয়েছে। নিয়মিত কর দেওয়ার পরও এমন দুর্ভোগের কোনো সমাধান হচ্ছে না। আমাদের এমন দুর্দশা কি তাদের চোখে পড়ে না?
কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক এইচ এম ফখরুল হোসাইন ঢাকা পোস্টকে বলেন, দুই দিনের বৃষ্টিতে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় আবারও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পানি নিষ্কাশনে কাজ চলছে। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য সময় প্রয়োজন। অনেক খাল সরু হয়ে গেছে এবং বিভিন্ন ড্রেন অকার্যকর হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্টদের নিয়ে এ সমস্যা সমাধানে আলোচনা হয়েছে।
আশিকুর রহমান/এসএইচএ
