বগুড়া শহরের লতিফপুর কলোনি এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে মো. আরিফ শেখ (৩৩) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনরা। নিহতের বড় বোন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছেও ভাই হত্যার বিচার দাবি করেছেন।
শুক্রবার (১০ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে শহরের লতিফপুর কলোনির প্রীতি প্রাইমারি স্কুলের পেছনের একটি গলিতে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি ইব্রাহিম আলী।
নিহত আরিফ শেখ লতিফপুর কলোনি এলাকার বাসিন্দা। তিনি মো. আজিজ শেখের ছেলে।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক লেনদেন ও পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে কয়েকজনের সঙ্গে আরিফ শেখের দ্বন্দ্ব চলছিল। শুক্রবার গভীর রাতে তাকে কৌশলে ডেকে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ছোট বোন রুমি আফরিন বলেন, আমার ভাই আরিফ শেখকে পরিকল্পিতভাবে ও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রধান আসামি সেলিম, দ্বিতীয় আসামি তার ভাগ্নে শুভ এবং তৃতীয় আসামি জীবন। তারা পরিকল্পনা করে আমার ভাইকে ডেকে নিয়ে বগুড়া শহরের প্রীতি প্রাইমারি স্কুলসংলগ্ন একটি গলিতে নির্মমভাবে হত্যা করেন।
এর আগে আমাদের পরিবারের সঙ্গে আমার মামার আর্থিক বিরোধ ছিল। আমার মা তাকে কিছু টাকা ধার দিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো লিখিত কাগজপত্র না থাকায় পরে তিনি সেই টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। আমার ভাই অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার জন্য বারবার টাকা ফেরত চাইলে তিনি দিতে অস্বীকৃতি জানান।
তিনি আরও বলেন, আমার মামা, আমার ভাইয়ের বাগদত্তার বাবা এবং আসামিরা পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। আমার ভাই অসুস্থ ছিলেন এবং তার একটি হাত ভাঙা ছিল। সেই সুযোগ নিয়ে তাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তার গলা, হাত-পায়ের রগসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপ দেওয়া হয়েছে। মরদেহ এতটাই বিকৃত করা হয়েছিল যে আমরা প্রথমে তাকে ঠিকভাবে চিনতেও পারিনি। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের দ্রুত বিচার এবং সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।
নিহতের বড় বোন মোছা. রোজিনা খাতুন বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও প্রশাসনের কাছে হাতজোড় করে আবেদন জানাচ্ছি, আমার ভাই হত্যার বিচার দ্রুত নিশ্চিত করুন। একটি পরিবারের একমাত্র ছেলেকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা পাঁচ বোন আমাদের একমাত্র ভাইকে হারিয়েছি। আমাদের বৃদ্ধ বাবা মা আজ অসহায় হয়ে পড়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আমার ভাই আমাদের পরিবারের ভরসা ছিল। ছোটবেলা থেকে সে আমাদের আগলে রেখেছে, আমাদের স্বপ্ন দেখিয়েছে। আজ সেই ভাইকে আমরা হারিয়েছি। আমরা কোনো প্রতিশোধ চাই না, আমরা শুধু আইনের সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার চাই। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, এটাই আমাদের একমাত্র দাবি।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি। তবে নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, তারা শিগগিরই এ ঘটনায় মামলা করবেন।
আব্দুল মোমিন/এসএএস
