বিজ্ঞাপন

কুশিয়ারার পানির স্রোতে ভেঙে দুই ভাগ সড়ক, ভোগান্তিতে ১০ গ্রামের মানুষ

কুশিয়ারার পানির স্রোতে ভেঙে দুই ভাগ সড়ক, ভোগান্তিতে ১০ গ্রামের মানুষ

টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কুশিয়ারা নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে মারকুলি পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর প্রভাবে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বড় অংশ পানির তীব্র স্রোতে ধসে পড়েছে। এতে সড়কটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ফলে রানীগঞ্জ ইউনিয়নের অন্তত ১০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের রানীগঞ্জ দক্ষিণপাড়া-রৌয়াইল সড়কের বালিশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কুশিয়ারা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। প্রবল স্রোতের তোড়ে সড়কের নিচের মাটি সরে গিয়ে একপর্যায়ে সড়কের মাঝের বড় একটি অংশ ধসে পড়ে। এতে সড়কটি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বর্তমানে ওই স্থান দিয়ে তীব্র স্রোতে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। যে কারণে যানবাহন তো দূরের কথা, পথচারীদের চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে। 

সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় রানীগঞ্জ ইউনিয়নের বালিশ্রী, রৌয়াইল, হিলালপুর, টেংরাখালি, মেঘেরকান্দি, জয়নগর, আলমপুর, নেজারকান্দি, হরিনাকান্দিসহ আশপাশের প্রায় ১০ গ্রামের মানুষের উপজেলা সদরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, গর্ভবতী নারী, ব্যবসায়ী ও বয়স্ক রোগীরা।

রৌয়াইল গ্রামের বাসিন্দা গফুর মিয়া বলেন, নদীতে পানি বাড়তে থাকায় হঠাৎ করে এই সড়কটি ভেঙে যায়। এই একটি সড়কের ওপর নির্ভর করেই প্রায় ১০-১২টি গ্রামের মানুষ উপজেলা সদরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে। এখন কয়েক কিলোমিটার ঘুরে অন্য পথে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বেড়ে গেছে। জরুরি প্রয়োজনে রোগী হাসপাতালে নেওয়া কিংবা শিক্ষার্থীদের যাতায়াতও কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।

বালিশ্রী গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন রুমান বলেন, সড়কটি ভেঙে যাওয়ার কারণে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। প্রতিদিন শত শত মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভাঙন আরও বাড়তে পারে এবং আশপাশের এলাকাও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

রৌয়াইল বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াহাব বলেন, আমাদের বাজারে পণ্যবাহী যেসব যানবাহন আসে তার অধিকাংশ এই সড়ক দিয়েই আসে। এখন তো দোকানে প্রয়োজনীয় মালামাল আনতেও সমস্যা হবে। অন্য পথ ব্যবহার করে মালামাল আনলে খরচ বাড়বে।

রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ ছদরুল ইসলাম বলেন, রাস্তা ভাঙার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও এলজিইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। জনগণের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা এবং স্থায়ীভাবে সড়কটি মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছি।

এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) সোহরাব হোসেন বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। ভাঙন রোধ এবং জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে দ্রুত সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তামিম রায়হান/এমএসএ

বিজ্ঞাপন