বিজ্ঞাপন

অল্প পুঁজিতে বেশি লাভ, নীলফামারীতে বাড়ছে বাণিজ্যিক আখ চাষ

অল্প পুঁজিতে বেশি লাভ, নীলফামারীতে বাড়ছে বাণিজ্যিক আখ চাষ

অল্প পুঁজিতে অধিক লাভজনক হওয়ায় নীলফামারীতে দিন দিন বাড়ছে বাণিজ্যিক আখ চাষ। ভালো ফলন ও বাজারে চাহিদা থাকায় প্রতি বছরই এ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকেরা। চলতি মৌসুমেও জেলায় আখের বাম্পার ফলন হওয়ায় খুশি চাষিরা।

জানা যায়, নীলফামারীর বেলে দোআঁশ মাটি আখ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এ জেলায় ৭ থেকে ৮ মাসের মধ্যেই আখ পরিপক্ব হয়। উঁচু ও নিচু—দুই ধরনের জমিতেই আখের ভালো ফলন হওয়ায় আখ চাষের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ১৭৭ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। আখ চাষের পাশাপাশি সাথী ফসল চাষেরও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে কৃষকদের।

জেলার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে দেখা যায়, আখের পরিচর্যা করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। কোথাও আখ কেটে ভ্যানে করে বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন জায়গায় থেকে পাইকাররা জমিতে এসে আখ পছন্দ করে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। আখ শুধু এ জেলায় নয়, পাইকাররা সংগ্রহ করে বিভিন্ন জেলায় নিয়ে গিয়ে বিক্রি করছেন।

লক্ষীচাপ ইউনিয়নের বসুনিয়া বাজার এলাকার কৃষক ধীরেন্দ্র নাথ রায় ঢাকা পোস্টকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আখ চাষ করছি। এটি খুবই লাভজনক ফসল। শুরু থেকে ঠিকমতো পরিচর্যা করলে রোগবালাই কম হয়। প্রতি বিঘায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হলেও ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকায় আখ বিক্রি করা যায়।  

কৃষক মিজানুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে আখ চাষ করছি। রোগবালাই কম থাকলে ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রতি বিঘায় প্রায় ২০ হাজার টাকা লাভ করা সম্ভব। এবার ইশ্বরদী ও ফিলিপাইন জাতের আখ চাষ করেছি। ভালো দাম পেলে লাভ আরও বেশি হবে।

জলঢাকার কৈমারী এলাকার কৃষক আনারুল মিয়া ঢাকা পোস্টকে বলেন, এ বছর ৩৩ শতাংশ জমিতে আখ চাষ করেছি। কীটনাশক ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে প্রায় ১২ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা লাভের আশা করছি।

এবিষয়ে নীলফামারী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হুমায়ারা মণ্ডল ঢাকা পোস্টকে বলেন, নীলফামারীর মাটি আখ চাষের জন্য উপযোগী। চলতি মৌসুমে জেলায় ১৭৭ হেক্টর জমিতে ইশ্বরদী-৪১, ৩৭, ৮ জাতের আখের আবাদ হয়েছে। কৃষকদের আখের পাশাপাশি সাথী ফসল চাষেও উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে তারা আরও বেশি লাভবান হতে পারেন।

শাহজাহান ইসলাম লেলিন/এসএইচএ