সিলেটের হজরত শাহজালালের (রহ.) মাজারে দ্বিতীয় দফায় দানবাক্স ও ডেগ খুলে গণনা করে ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা পাওয়া গেছে। এছাড়াও বিদেশি মুদ্রা, স্বর্ণ, স্বর্ণসদৃশ বস্তু ও রূপাও পাওয়া গেছে।
শনিবার (১১ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে হজরত শাহজালালের (রহ.) দরগাহ মসজিদের বারান্দায় জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে সিলগালা করা দানবাক্স ও ডেগ খোলা হয়। সেখান থেকে চার বস্তা টাকা বের করে গণনা কার্যক্রম শুরু করা হয়।
শাহজালালের (রহ.) মাজার মাদরাসার শিক্ষার্থীরা নগদ অর্থ গণনায় অংশ নেন। গণনা শেষে মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ফল ঘোষণা করেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
গণনা শেষে কমিটির অফিশিয়াল হিসাবপত্র অনুযায়ী, দানবাক্স ও ডেগ থেকে নগদ ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বিদেশি মুদ্রাও পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে ১৩৫ সৌদি রিয়াল, ২ হাজার ৫৩২ ভারতীয় রুপি, ৫৪ দশমিক ২ দিরহাম, ওমানের ১ দিনার ৪৫০ পয়সা, ৪ হাজার ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়া, ২০ মার্কিন ডলার, ২০ হংকং ডলার, ২০ ইউরো, ১০ সিঙ্গাপুর ডলার, ২২ কাতারি রিয়াল, ৬ মালয়েশিয়ান রিংগিত এবং ৬০ পাকিস্তানি রুপি।
এ ছাড়াও দানবাক্স থেকে ৯ গ্রাম স্বর্ণ, ১০ গ্রাম স্বর্ণসদৃশ বস্তু এবং ৩৯ দশমিক ৪ গ্রাম রূপা পাওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ গণনার পর থেকে মাজারে ভক্তদের দেওয়া গবাদিপশুর হিসাবও প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, একটি গরু লঙ্গরখানায় জবাই করে রান্নার মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও দান করা ৬৫টি ছাগলের মধ্যে ৪০টি লঙ্গরখানায় রান্না করে বিতরণ করা হয়েছে। বাকি ২৫টি ছাগল বিক্রি করে ১ লাখ ২৫ হাজার ৪০০ টাকা আয় হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২২ জুন প্রায় ৭০০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মাজারের চারটি পুরোনো ও জেলা প্রশাসনের স্থাপন করা চারটি নতুন দানবাক্সসহ মোট আটটি দানবাক্স ডাবল লক পদ্ধতিতে খোলা হয়। সেদিন নগদ ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা, ৭ আনা স্বর্ণালঙ্কার ও দুটি সৌদি রিয়াল পাওয়া যায়। পরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫ লাখ টাকার একটি চেক যুক্ত করলে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। পরে পুরো অর্থ হজরত শাহজালালের (রহ.) নামে সোনালী ব্যাংকের করপোরেট শাখায় জমা দেওয়া হয়।
মাসুদ আহমদ রনি/এসএইচএ
