ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা কেন্দ্রের কক্ষের ভেতরে পরীক্ষার্থীদের নকল করতে না দেওয়ায় পরীক্ষা শেষে পুরো কেন্দ্রটি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে চরফ্যাশন সরকারি কলেজের একদল পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এছাড়া ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে পরীক্ষার খাতাও।
এ ঘটনায় পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা অন্তত ৭ জন শিক্ষকসহ কলেজটির গভর্নিং কমিটির সভাপতি আহত হয়েছেন। পরে টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর ১টা থেকে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চরফ্যাশন উপজেলা শহরের ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজে কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
কলেজ কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের সাথে কথা বলে জানা যায়, বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের আওতায় ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজ কেন্দ্রটিতে চলমান এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে পরীক্ষা দিয়ে আসছিল চরফ্যাশন সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা। শনিবার ছিল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) পরীক্ষা। যথারীতি সকালে পরীক্ষা শুরু হলে কেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষে এমসিকিউ প্রশ্ন সরবরাহ করা হয়। তবে ৩০৪ নম্বর কক্ষে শিক্ষার্থীরা দাবি করেন প্রশ্ন তাদের কমন পড়েনি। এরপর থেকে শিক্ষার্থীরা নকল করার চেষ্টা করলে কক্ষে দায়িত্বরত শিক্ষকরা নকলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন। মূলত এর পরপরই পরীক্ষার্থীরা কক্ষের শিক্ষকদের সাথে নানান অসৌজন্যমূলক আচরণ করা শুরু করেন। পরে পরীক্ষা শেষে বেরিয়ে শতশত শিক্ষার্থী একযোগ হয়ে কলেজের গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর চালায়।
চরফ্যাশন ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব মো.মহিউদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমাদের কলেজের পরীক্ষা কেন্দ্রের কক্ষের ভেতরে চরফ্যাশন সরকারি কলেজের পরীক্ষার্থীদের নকল করতে না দেওয়ায় পরীক্ষা শেষে ইট পাটকেল নিক্ষেপসহ তারা আমাদের কলেজ ভাঙচুর করেছে। কলেজের গভর্নিং কমিটির সভাপতি সিকদার হুমায়ুন কবিরস ৭ জন শিক্ষক আহত হয়েছেন। আহত শিক্ষকরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাসায় চল গেছেন।
হামলাকারীরা কন্ট্রোলরুম থেকে পরীক্ষা খাতা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টাকালে নিজেদের জীবন বাজি রেখে আমরা খাতা রক্ষা করেছি। বিষয়টি বোর্ডসহ সকলকে জানানো হয়েছে।
চরফ্যাশন সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. মেহেদী হাসান ঢাকা পোস্টকে বলেন, পরীক্ষার হলের গার্ড কঠোর হয়েছিল দাবি করে পরীক্ষার্থীরা কলেজের সামনে অবস্থান নিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিয়ে কলেজের বিভিন্ন সামগ্রী ভেঙেছে বলে জানা গেছে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই রাউন্ড টিয়ারশেল ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় কেউ আটক নেই।
মো. খাইরুল ইসলাম/এসএইচএ
