বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় স্টেডিয়ামে ১৬ সদস্যের একটি সশস্ত্র আনসার দল সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন শুরু করেছে।
স্টেডিয়াম সংশ্লিষ্টদের মতে, এর ফলে স্টেডিয়ামের সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে এলাকাকে ঘিরে গড়ে ওঠা ছিনতাই ও মাদকচক্রের তৎপরতাও নিয়ন্ত্রণে আসবে।
জানা যায়, ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর উদ্যোগে শহীদ চান্দু জেলা স্টেডিয়াম ভেঙে আধুনিক আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হয়। ২০০৪ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। স্টেডিয়ামের আউটফিল্ড ও উইকেটের মান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের প্রশংসা কুড়ালে অল্প সময়েই এটি বিশ্ব ক্রিকেট অঙ্গনে পরিচিতি লাভ করে। পরবর্তীতে দ্রুত সময়ের মধ্যে স্টেডিয়ামে ফ্লাডলাইটও স্থাপন করা হয়।
২০০৬ সালে শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম আন্তর্জাতিক ভেন্যুর মর্যাদা অর্জন করে। তবে একই বছরের ডিসেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের পর দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক এখানে আর কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি। নিয়মিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট না হওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) বিধিমালা অনুযায়ী স্টেডিয়ামটি আন্তর্জাতিক ভেন্যুর মর্যাদা হারায়।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার কারণে স্টেডিয়াম এলাকা ছিনতাইকারী ও মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছিল। নিরাপত্তার জন্য পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হলেও চুরি ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি।
এ অবস্থায় বিসিবির আবেদনের পর গত ৫ জুন থেকে স্টেডিয়ামে ১৬ সদস্যের সশস্ত্র আনসার বাহিনী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন শুরু করে।
শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামের ভেন্যু ম্যানেজার জামিলুর রহমান জামিল বলেন, পুলিশ ফাঁড়ি থাকা সত্ত্বেও স্টেডিয়ামের সম্পদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। আনসার সদস্যরা দায়িত্ব নেওয়ায় এখন নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে বলে আমরা আশা করছি।
আব্দুল মোমিন/এসএইচএ
