বিজ্ঞাপন

গাইবান্ধায় কৃষককে নিজ বাড়িতে গলাকেটে হত্যা

গাইবান্ধায় কৃষককে নিজ বাড়িতে গলাকেটে হত্যা

গাইবান্ধার ফুলছড়িতে বেকি দিয়ে শাহজালাল নামের এক কৃষকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি নিহতের পরিবারের।

বোরবার (১২ জুলাই) গভীর রাতে উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ কঞ্চিপাড়া (মাঝিপাড়া) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

সকালে ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুরুল হোদা ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। হত্যার শিকার শাহজালাল ওই গ্রামের মৃত নিয়ামত উল্লার ছেলে। পেশায় তিনি কৃষক (বাঁশের কাজ) ছিলেন।

পুলিশ, খুনের শিকার পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতে খাবার খেয়ে শুয়ে পড়ে শাহজালাল। স্ত্রী মূল ঘরে ও শাহজালাল বারান্দার আলাদা কক্ষে (টিনের) ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ২টার দিকে গোঙরানোর শব্দ পান তার স্ত্রী গোলেদা বেগম। পরে বারান্দার কক্ষে স্বামীকে গলাকাটা অবস্থায় দেখতে পান তিনি। এসময় গলাকাটায় হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিটি মরদেহের পাশেই পড়েছিল। পরে স্থানীয়দের খবরে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফুলছড়ি থানা পুলিশ।

নিহত শাহজালাল ছেলে অটোচালক পাঞ্জু মিয়া ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমার জ্যাঠাতো ভাই গোলাম হোসেন আমার বাবাকে খুন করে পালিয়েছে। পালানোর সময় আমার মা তাকে দেখেছে। গোলাম হোসেন সব সময় তার পরিবারে অশান্তি করত, তার বউকে প্রচন্ড মারধর করত। সেটা নিয়ে আমরা বাধা দিতাম। চাচা হিসেবে আমার বাবা প্রতিবাদ করতেন। সর্বশেষ কোদাল দিয়ে ওর বউকে মারধর করার কারণে ৫ মাস আগে সে (গোলামের বউ) বাবার বাড়ি গিয়ে আর আসেনি, এখন ঢাকায় থাক। সেই ক্ষোভেই আমার বাবাকে খুন করেছে গোলাম হোসেন।

কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আজাদ মিয়া ঢাকা পোস্টকে বলেন, গত ৫ মাস আগে পরিবার ও স্থানীয়রাসহ আমরা গোলামের বউকে নিরাপত্তার স্বার্থে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেই। বউকে অনেক মারধর করত গোলাম। ঘটনাস্থলে পুলিশ এসেছে, তারা তদন্ত করছে।

খুনের ঘটনাস্থলে থাকা ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুরুল হোদা বলেন, হত্যায় ব্যবহৃতটি ছুরিটি মরদেহের পাশে থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বারান্দার একটি রুমের পাটাতনের নিচের অংশ খুলে রুমের ভেতরে ঢুকে গলাকেটে খুন করা হয় কৃষককে। 

মাসুম বিল্লাহ/আরকে

বিজ্ঞাপন