বিজ্ঞাপন

পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি ব্রিজের নির্মাণকাজ, ড্রামের ভেলায় ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার

পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি ব্রিজের নির্মাণকাজ, ড্রামের ভেলায় ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার

কুড়িগ্রামে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গাফিলতি ও অবহেলার কারণে দীর্ঘ ৫ বছরেও সম্পন্ন হয়নি একটি ব্রিজের অবশিষ্ট নির্মাণকাজ। বাধ্য হয়ে ড্রামের ভেলায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে শিশু শিক্ষার্থীসহ গ্রামের বিভিন্ন বয়সের মানুষ।

প্রত্যন্ত এলাকায় একমাত্র যোগাযোগ স্থাপনকারী ব্রিজটির নির্মাণকাজ ফেলে রাখায় প্রায়শই ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। কর্মকর্তাদের আশ্বাস বন্যার পানি নেমে গেলেই শেষ করা হবে নির্মাণকাজ।

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের প্রত্যন্ত খোচাবাড়ী তালতলা ব্রিজটির নির্মাণকাজ শুরু করা হয় ১৯ এপ্রিল ২০২১-২০২২ অর্থবছরে। কুড়িগ্রাম শহরের ঘোষপাড়াস্থ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নুফা জেডএইচডি-জিবি প্রতিষ্ঠানটি ২ কোটি ৮৪ লাখ ১১ হাজার টাকায় নির্মাণকাজ শুরু করে। ৪২ মিটার দীর্ঘ ব্রিজটি নির্মাণে দ্বিতীয় দফা এক্সটেনশন বাজেট বৃদ্ধি করে ৩ কোটি ১ লাখ ১৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দ্রুত কাজ শেষ করার তাগিদ দেওয়া হলেও তা আজ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। দুই পাশের গার্ডার ও মাঝখানে পিলার স্থাপনের পর থেকে ঝুলে আছে ব্রিজটির নির্মাণকাজ। ফলে দুই পাড়ের ৭ গ্রামের প্রায় দশ হাজার মানুষের যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিকাজ ও লেখাপড়া ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এছাড়া ড্রামের ভেলা থেকে পড়ে গিয়ে প্রায়শই ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা।

স্থানীয় জাইদুল সরদার বলেন, ব্রিজটির নির্মাণকাজ শেষ না করায় শিক্ষার্থীরা সময়মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পারছে না। বয়স্ক মানুষ ও অসুস্থ রোগীদের পারাপারে কষ্ট হচ্ছে। বর্ষার সময় ব্রিজের অপর পাড় থেকে ধান-পাটসহ ফসল এবং গরু-ছাগল পারাপার করতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

স্কুল শিক্ষার্থী আশিক, হাবিব, রবিনসহ অনেকেই বলেন, দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে ড্রামের ফেলায় করে প্রতিদিন পারাপার হতে হয়। এখানে এসে অনেক ঘন দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। খুব কষ্ট হয়। ওপার থেকে কেউ আসবে তারপর পার হতে হয়। দেরি হওয়ায় সময়মতো স্কুলে পৌঁছাতে পারি না। যদি ব্রিজটি ঠিক করতো তাহলে আমাদের জন্য ভালো হতো।

এবিষয়ে উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মামুনুর রহমান বলেন, দ্রুত ব্রিজের নির্মাণকাজ সমাপ্ত করা হবে। বর্ষা মৌসুম শেষ হলেই তালতলা ব্রিজটির নির্মাণকাজ দ্রুততম সময়ে শেষ করা হবে।

মমিনুল ইসলাম বাবু/আরকে

বিজ্ঞাপন