টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে পাবনা পৌরশহরের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অপর্যাপ্ত ও অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সড়ক, দোকানপাট ও বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। জলাবদ্ধতায় ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, আর দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পৌরশহরের ১৫টি ওয়ার্ডে ২৪০ কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণ করা হলেও এসব রাস্তার অধিকাংশই খানা-খন্দে ভরা। এ নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিনেও রাস্তাগুলো সংস্কার না করায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পথচারীসহ স্থানীয়রা।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষক নাজমুল হক জানান, গত ৪ জুলাই থেকে ১২ জুলাই (রোববার) পর্যন্ত পাবনা জেলায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১৬৬ মিলিমিটার। অবিরাম বর্ষণে পাবনা পৌরসভা এলাকা পানিতে সয়লাব হয়ে যায়। এ সময় ঝুঁকি আর দুর্ভোগ মাথায় নিয়ে চলাচল করে যানবাহন।
১২ জুলাই সরজমিনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায় পাবনা পৌর সদরের শিবরামপুর মহিষের ডিপো ও আতাইকুলা সড়কে। শুধু এই এলাকায় নয়। একটু বৃষ্টি হলেই এমন চিত্র দেখা যায় রাধানগর, মক্তব মোড়, যুগীপাড়া, কালাচাঁদপাড়া, শালগাড়িয়া, আটুয়া মোড়, গোপালপুর, দিলালপুর, দোহার পাড়া, কুঠিপাড়া, মনসুরাবাদ আবাসিক এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায়।

কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে পাবনা পৌর সদরের এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পৌরবাসীসহ পথচারীরা। পৌর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ।
রাধানগর মক্তবড় এলাকার বাসিন্দা মো. ইমরান নাজির বলেন, বাড়ি থেকে বের হয়েই দেখি পানি। শহরে যাব, বাড়ির সামনে পাওয়া যায় না রিকশা। অনেক সমস্যার মধ্যে আছি। একটু বৃষ্টি হলেই বাড়ির সামনের রাস্তায় পানি উঠে যায়। এ সমস্যা থেকে কবে রক্ষা পাব তারও ঠিক নেই।
মুজাহিদ ক্লাব এলাকার কেমিক্যাল ব্যবসায়ী রাসেল হোসেন বলেন, পানি নিয়ে আমার সবই সমস্যা। পাবনাতে বৃষ্টি হলে কোথাও পানি না উঠলে এই মুজাহিদ ক্লাব আতাইকুলার সড়কে পানি উঠবেই। পানির মধ্যে কাস্টমার আসে না। তবুও আসি দোকানে জমে থাকা পানি ফেলে দিতে। তবে, আশা করছি চলমান ড্রেনের কাজ সম্পন্ন হলে এ থেকে রেহাই পাব।
একই এলাকার এশিয়ান ফার্নিচারের কর্মচারী মো. আরিফ বলেন, আমি এই পানির মধ্যে সাইকেল নিয়ে দোকানে আসি। পানির মধ্যে কোথায় খাল-খন্দ আছে দেখতে পাই না, মাঝে মাঝে পড়ে যাই।
অটোরিকশাচালক সোহেল মিয়া বলেন, বৃষ্টিতে সড়ক ডুবে যায়। গাড়ি চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। কোথায় গর্ত ভাঙাচোরা কিছুই দেখি না। এজন্য দুর্ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে পাবনা পৌর প্রশাসক খাইরুল ইসলাম বলেন, আমরা জলাবদ্ধ এলাকাগুলো সরজমিনে গিয়ে দেখছি। কোথায় কি ব্যবস্থা নিতে হবে সেগুলো পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা চেষ্টা করি সব সময় পরিষ্কার রাখার। তারপরও কিছু ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার ও কিছু ড্রেন নতুন করে নির্মাণ করতে হবে। আশা করছি দ্রুত সমাধান হবে।
পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার বলেন, সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ইছামতি নদী ও সংযোগ খাল খনন প্রকল্পের কাজ চলমান। নদী ও সংযোগ খালগুলো খনন হলে পাবনা জেলায় আর জলাবদ্ধতা থাকবে না।
এসএইচএ
