বিজ্ঞাপন

ভোলায় ১২০০ কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশা, চরম দুর্ভোগে লাখো মানুষ

ভোলায় ১২০০ কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশা, চরম দুর্ভোগে লাখো মানুষ

দ্বীপজেলা ভোলায় দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। খানাখন্দে ভরা এসব সড়কে চলতি বর্ষায় দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী, বয়স্ক ব্যক্তি, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীরা। পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহন।

প্রায় ৩ হাজার ৪০৩ দশমিক ৪৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ভোলা জেলায় প্রায় ২২ লাখ মানুষের বসবাস। জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। বিকল হচ্ছে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন। স্থানীয়দের কাছে এসব সড়ক এখন যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভোলা পৌরসভার ইলিশা বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন ভদ্রেরপোল থেকে পশ্চিম ইউনিয়নের হাওলাদার মার্কেট পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়ক, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের সড়ক, দরগাহ রোড থেকে আলীনগর মাদরাসা বাজার সড়ক এবং সার্কিট হাউস থেকে চরছিফলী সড়কসহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কের খুবই বেহালদশা। এসব গর্তে পানি জমে থাকায় হেঁটেও চলাচল কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

এছাড়া যানবাহনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে এসব সড়কে যাত্রী পরিবহন কমিয়ে দিয়েছেন চালকরা। চলাচলের বিকল্প উপায় আরও বেশি ভোগান্তির হওয়ায় এবং সচরাচর গাড়ি না পাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে এসব সড়কে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে স্থানীয়দের। গন্তব্যে পৌঁছাতেও লাগছে দ্বিগুণেরও বেশি সময়।

এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, জেলার ৭ উপজেলায় মানুষের চলাচলের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে মোট ৫ হাজার ৬০০ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটার পাকা সড়ক। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার সড়ক এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল খালেক বলেন, কয়েক বছর ধরে ভদ্রেরপোল-হাওলাদার মার্কেট সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। বড় বড় গর্ত ও পানি জমে থাকায় পায়ে হেঁটেও চলাচল করা যায় না। প্রতিদিন হাজারো মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ইসমাইল নুর বলেন, সড়কটি এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। যানবাহন চলাচল কমে যাওয়ায় প্রয়োজনীয় কাজেও সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো যায় না।

অসীম ও জাকির নামে দুই বাসিন্দা বলেন, বাধ্য হয়েই ঝুঁকি নিয়ে এই সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। অনেক মানুষ আহত হচ্ছেন, কেউ কেউ পঙ্গুত্বও বরণ করছেন। এ অবস্থায় আর কতদিন কাটাতে হবে?

শিক্ষার্থী অন্তর ও নাজিব জানায়, বৃষ্টির দিনে কাদা-পানির কারণে স্কুলে যেতে অনেক কষ্ট হয়। অনেক সময় পোশাক নষ্ট হয়ে যায়।

শিক্ষার্থীদের অভিভাবক পলাশ ও বাবুল বলেন, যুবক, নারী শিশু ও বৃদ্ধ কেউই এই সড়কে নিরাপদ না। হেঁটে যাওয়ার সময় পোশাক কাদাপানি লেগে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সময়মতো পাওয়া যাচ্ছে না যাত্রীবাহী যানবাহন। ভাড়া বেশি দেওয়ার কথা বললেও অনেক চালক গাড়ি নিয়ে আসেন না। এতে শিক্ষার্থীদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন অভিভাবকরাও। 

পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী গাড়িচালক সাজু, ইমাম হোসেন, জাকারিয়া বেলাল ও আরিফ বলেন, বড় বড় গর্তে গাড়ি আটকে যায়, প্রায়ই যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়। অনেক সময় একটি ট্রিপে যা আয় হয়, তার চেয়ে বেশি টাকা মেরামতে ব্যয় করতে হয়। সহজ চলাচলের মাধ্যম না থাকায় বাধ্য হয়েই এসব সড়কে গাড়িতে চালাতে হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ঝিলন ও খলিলুর রহমান বলেন, ভাঙাচোরা সড়কের কারণে ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। শুধুমাত্র রাস্তার কারণে পরিবহন সংকটে পণ্য আনা-নেওয়া ব্যাহত হচ্ছে, এতে ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

ভোলা জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, ভোলায় এলজিইডির উন্নয়ন কাজের প্রায় ৭০ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। এই অর্থ পরিশোধ এবং নতুন বরাদ্দ ছাড়া বড় পরিসরে সংস্কারকাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। এসব সড়ক সংস্কারের জন্য নতুন প্রকল্প এবং বরাদ্দ প্রয়োজন। 

এদিকে অতিদ্রুত প্রকল্প প্রণয়নের মাধ্যমে ভোলার ১২০০ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারে উদ্যোগ নেবে সরকার, লাঘব হবে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির। এমনটাই প্রত্যাশা ভোলাবাসীর।

মো.খাইরুল ইসলাম/এসএইচএ 

বিজ্ঞাপন