জয়পুরহাট সদর উপজেলার পশ্চিম রামকৃষ্ণপুর সীমান্তে ভারত থেকে পুশইনের চেষ্টার শিকার তিন ব্যক্তি উধাও হয়ে গেছেন। রোববার (১২ জুলাই) সকালে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। ওই তিন ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবির বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১১ জুলাই) ভোরে আলো নিভিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) পাঁচজনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে। এরমধ্যে দুইজন বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে দৌড়ে পালিয়ে যান।
অপর তিনজন শেখ হাফিজুর রহমান, নাছিমা বেগম ও শেফালী বেগমকে স্থানীয়রা আটক করে বিজিবিকে জানান। বিজিবি সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে শূন্যরেখায় নিয়ে (নো ম্যানস ল্যান্ড) কঠোর পাহারায় রাখেন এবং বিএসএফের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন। কিন্তু রোববার সকাল থেকে ওই তিনজনকে আর সেখানে দেখা যায়নি।
ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর নড়াইল থেকে তাদের স্বজনরা সীমান্তে ছুটে আসেন। তাদের মধ্যে শেখ হাফিজুর রহমান ও নাছিমা বেগমের ছেলে নড়াইল পৌর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সোহাগ শেখ রয়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, শনিবার রাতে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে করে তারা সেখানে পৌঁছান। পরে বিজিবি সদস্যরা স্থানীয়দের রাতে ঘরের বাইরে না বের হওয়ার নির্দেশ দেন। রোববার দুপুর পৌনে ১২টায় সরেজমিনে সীমান্তে গিয়ে কাউকে দেখা যায়নি।
গ্রামের অন্তত ১০ জন বাসিন্দা জানান, শনিবার রাত ৯টা পর্যন্ত ওই তিনজন শূন্যরেখাতেই ছিলেন। রোববার ভোরে উঠে তারা শূন্যরেখায় কাউকে দেখতে পাননি। স্থানীয়দের ধারণা, রাতের কোনো এক সময়ে তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সোহাগ শেখ মুঠোফোনে বলেন, আমার মা-বাবা পাঁচ মাস আগে চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন। প্রথম দিকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হলেও প্রায় এক মাস ধরে কোনো যোগাযোগ ছিল না। শনিবার সকালে জয়পুরহাট সীমান্তে তাদের আটকের ভিডিও দেখে রাতে সেখানে যাই। কিন্তু মা-বাবাকে সঙ্গে নিয়ে আসতে দেওয়া হয়নি। দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
জানতে চাইলে বিজিবি-১৪ পত্নীতলা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, রাতের কোনো এক সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের নিয়ে চলে গিয়েছে।
চম্পক কুমার/এসএইচএ
