ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় একটি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের নকল করতে না দেওয়ার ঘটনায় পরীক্ষা শেষে সেখানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের ও তৈরি হওয়া উদ্ধুদ্ধ পরিস্থিতিতে নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে পরীক্ষার্থীদের আসন্ন পরীক্ষাগুলো দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ।
রোববার (১২ জুলাই) দিনগত রাত ৮টার দিকে চরফ্যাশন উপজেলা প্রশাসনের ফেসবুক পোস্টে এ আহ্বান জানানো হয়।
ওই পোস্টে উল্লেখ করা হয়, ‘চরফ্যাশন উপজেলার সকল এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের নির্ভয়ে, চাপমুক্ত থেকে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো। সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলা প্রশাসন শিক্ষার্থীদের পাশে আছে, অনুরোধক্রমে ইউএনও চরফ্যাশন।’
এ বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা চাই পরীক্ষার্থীরা সুন্দরভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করুক। ঘটে যাওয়া ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত, সুন্দরভাবে পরীক্ষা শেষ করার জন্য আমরা সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।
ইউএনও আরও বলেন, চরফ্যাশন সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের আসন্ন পরীক্ষাগুলো ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রেই অনুষ্ঠিত হবে। তবে আমরা নতুন করে কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। যেমন- কেন্দ্রটিতে চরফ্যাশন সরকারি কলেজের দুইজন শিক্ষককে সেখানে তাদের পরীক্ষার্থীদের মনিটরিংয়ের জন্য দিয়েছি। এছাড়া (গোপনীয়) আরও কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে।
চরফ্যাশন ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো.মহিউদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, কলেজের যেসব জায়গায় ভাঙচুর চালিয়েছে তা মেরামত করিয়েছি। যেহেতু এটা পরীক্ষা কেন্দ্র। আগামীকাল (সোমবার) অনুষ্ঠিত হবে বিভিন্ন গ্রুপের পরীক্ষার্থীদের পদার্থ বিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান, যুক্তিবিদ্যা বিষয়ের এইচএসসি পরীক্ষা। পরীক্ষা নেওয়ার পরিবেশ তৈরি করেছি। কেন্দ্রের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব প্রশাসনের।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে চরফ্যাশন সরকারি কলেজের পরীক্ষার্থীদের চলমান এইচএসসি ও সমমানের আইসিটি পরীক্ষা চলাকালে তাদেরকে নকল করতে না দেওয়ার অভিযোগ এনে পরীক্ষা শেষে একদল শিক্ষার্থী কেন্দ্রটিতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এতে আহত হন শিক্ষকসহ ৮ জন। প্রায় ১ ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং ২ রাউন্ড টিয়ারশেল ছুঁড়ে পুলিশ। পরবর্তীতে ওইদিন রাতে কলেজ অধ্যক্ষ মো.মহিউদ্দিন বাদী হয়ে প্রায় ১০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে চরফ্যাশন থানায় মামলা দায়ের করেন।
মো.খাইরুল ইসলাম/এসএইচএ
