টানা ভারী বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোণার প্রধান নদ-নদীর পানি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলার সীমান্ত উপজেলা কলমাকান্দায় উপদাখালী নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।
তবে পানি বৃদ্ধি পেলেও জেলায় এখন পর্যন্ত বড় কোনো বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি এবং লোকালয়ে পানি ঢোকেনি বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
নেত্রকোণা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার কলমাকান্দা পয়েন্টে উপদাখালী নদীর পানি সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ৯টায় বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার (০.০৮ মিটার) ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই পয়েন্টে পানির বর্তমান সমতল ৬.৬৩ মিটার (বিপৎসীমা ৬.৫৫ মিটার)। নদীটির পানি বৃদ্ধির প্রকোপ এখনো অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও এখন পর্যন্ত কোনো বন্যার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি এবং লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।
জেলা পাউবোর তথ্যমতে, কলমাকান্দার পাশাপাশি মগড়া ও ধনু নদীর পানিও ক্রমান্বয়ে বাড়ছে, তবে তা এখনো বিপৎসীমা ছাড়ায়নি। ধনু নদী (খালিয়াজুরী পয়েন্ট) সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, এই নদীর পানি বিপৎসীমার ১.৩৩ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত শুক্রবার এটি বিপৎসীমার ১.৪৩ মিটার নিচে ছিল।
মগড়া নদীর পানি গত শুক্রবার বিপৎসীমার ৭৯ সেন্টিমিটার নিচে থাকলেও আজ সকালে তা আরও বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৬২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
নেত্রকোণার অন্যান্য প্রধান নদীগুলোর পানি বাড়লেও সোমবার সকালে স্বস্তি মিলেছে কংশ ও সোমেশ্বরী নদীতে। কংশ নদীর পানি শুক্রবার বিপৎসীমার ১.৭৩ মিটার নিচে থাকলেও সোমবার সকাল ৯টায় তা আরও কমে বিপৎসীমার ১.৫১ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সোমেশ্বরী নদী দুর্গাপুর পয়েন্টে গত শুক্রবার বিপৎসীমার ৩.১৫ মিটার নিচে ছিল। সোমবার সকালে বিজয়পুর পয়েন্টে এটি বিপৎসীমার ৩.২৭ মিটার এবং দুর্গাপুর পয়েন্টে ৩.১৭ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই নদীটির পানির প্রকোপ বর্তমানে হ্রাসের দিকে।
নেত্রকোণা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিপাতের ওপর ভিত্তি করে নদীগুলোর পানি পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
চয়ন দেবনাথ মুন্না/এএমকে
