বিজ্ঞাপন

বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, স্বস্তি ফিরছে জনজীবনে

বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, স্বস্তি ফিরছে জনজীবনে

বান্দরবানে টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় জেলার অধিকাংশ নদী ও ছড়ার পানি কমতে শুরু করেছে। ফলে প্লাবিত এলাকাগুলো থেকে পানি নেমে যাওয়ায় জনজীবনও স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

বান্দরবান সদর, লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, রুমা, থানচি ও রোয়াংছড়িসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চলে জমে থাকা বন্যার পানি ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে। অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ পুনরায় চালু হয়েছে এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে কিছু দুর্গম এলাকায় এখনো সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত থাকায় সীমিতভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।

বন্যার পানি কমে যাওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া অনেক পরিবার নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

বেশ কয়েকদিন ধরে পানিবন্দি থাকায় শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাস্তাঘাট, ব্রিজ কালভার্ট,  ফসলি জমি  ও অনেক মাছের ঘের।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পানি কমতে শুরু করায় স্বস্তি ফিরেছে। তবে অনেক ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও গ্রামীণ সড়কের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তারা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো সংস্কার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।

জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (অ. দা.) বুলবুল আকতার সেতু জানিয়েছেন, গত ৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণ এবং এর ফলে সৃষ্ট বন্যায় বান্দরবানে এখন পর্যন্ত মোট ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পাহাড়ধসের ঘটনায় পাঁচজন এবং পানিতে ডুবে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বন্যা পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেকটা স্বাভাবিক হলেও পাহাড়ধসের ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি কাটেনি। তাই পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের সব ধরনের প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে ইতোমধ্যে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও বান্দরবান জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস। তিনি জানান, বরাদ্দকৃত অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ত্রাণ সহায়তা ও জরুরি মানবিক কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যয় করা হচ্ছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও সহায়তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এসএইচএ