বিজ্ঞাপন

হু হু করে বাড়ছে মুহুরী নদীর পানি, আতঙ্কে নদীতীরের মানুষ

হু হু করে বাড়ছে মুহুরী নদীর পানি, আতঙ্কে নদীতীরের মানুষ

ফেনীতে টানা বর্ষণ ও ভারতের উজানের ঢলে মুহুরী নদীর পানি হু হু করে বাড়ছে। উজানে ভারী বৃষ্টিপাত হলে দ্রুতই নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর ৩টার দিকে মুহুরী নদীতে পানির স্তর রেকর্ড করা হয় ১১ দশমিক ৪৫ মিটার। যা বিপৎসীমার ১ দশমিক ১০ মিটার নিচে আছে। নদীটির বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৫৫ মিটার।

টানা বৃষ্টি ও নদীর পানি বাড়তে থাকায় নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, প্রতিবছর বর্ষা এলেই বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ভাঙন নিয়মে পরিণত হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি সম্প্রতি একনেকে অনুমোদন পাওয়া প্রায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকার ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।

জেলার ফুলগাজী উপজেলার উত্তর শ্রীপুর এলাকার বাসিন্দা মো. মোর্শেদ বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই আমাদের দুশ্চিন্তা শুরু হয়। নদীর পানি বাড়তে থাকলে আর স্বাভাবিক থাকা যায় না। পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে থাকলেও উজানে ভারী বৃষ্টি হলে কী হবে, সেই শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

একই উপজেলার জগতপুর এলাকার বাসিন্দা নূর নবী বলেন, গত দুই বছর বন্যায় আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। তাই এবারও পানি বাড়ার খবর শুনে মানুষ আতঙ্কিত। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো দ্রুত মেরামত এবং সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নতুন প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু হলে মানুষের উদ্বেগ অনেকটাই কমবে।

ফেনী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান বলেন, সোমবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৫১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ধীরে ধীরে এ বৃষ্টিপাত কমতে পারে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, অন্যান্য সময়ের তুলনায় এবার পরিস্থিতি কিছুটা ব্যতিক্রম। গত কয়েক দিন ধরে কিছু সময় পানি বাড়লেও পরবর্তীতে আবার কমেছে। সর্বশেষ সোমবার সকাল থেকে নদীর পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। সকাল ৬টায় মুহুরী নদীর পানির স্তর রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ৩৫ মিটার, দুপুর ৩টায় তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৪৫ মিটারে। পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করলে বাঁধের একাধিক ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সমস্যা হতে পারে। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে।

তারেক চৌধুরী/এএমকে