২০ দিনের ব্যবধানে আবারও তীব্র জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার কয়েকটি এলাকা। এতে প্লাবিত হয়েছে অন্তত ২ হাজার ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও প্রধান সড়ক। তবে পুরো এলাকার নিষ্কাশনের খাল ও ড্রেনগুলো পানি ধারণ ক্ষমতার বাইরে থাকায় কাটছে না ভোগান্তি। এছাড়াও থেমে থেমে বৃষ্টির প্রভাবে আরও দীর্ঘ হচ্ছে জলাবদ্ধতা, ডুবছে অন্যান্য এলাকা। ফলে ঘরবাড়ি ফেলে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় খুঁজছেন প্লাবিত নগরবাসী।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল থেকে কালিয়াকৈর পৌরসভার পল্লীবিদ্যুত, হরিণহাটি, বিশ্বাসপাড়া, ডাইনকিনি, হরতিকিতলা, খাজারডেগসহ কয়েকটি এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতার চিত্র দেখা গেছে।
এছাড়াও ঢাকা- টাঙ্গাইল মহাসড়কের কিছু অংশও পানিতে ডুবে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে টানা তিনদিন ধরে এসব এলাকায় নেই বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ। এতে চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে হাজারো মানুষের।

পানিবন্দি বাসিন্দারা জানান, এসব এলাকায় এমন জলাবদ্ধতা আগে দেখা যায়নি। গত ২০ দিনে দুইবার আকস্মিক জলাবদ্ধতায় দিশেহারা মানুষ এখন অন্যত্র চলে যাচ্ছে। শতশত ঘরবাড়ির পাশাপাশি দোকানপাট, বিভিন্ন কারখানা, মসজিদ, মাদরাসা ও স্কুলগুলো জলাবদ্ধতায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এর ফলে পৌরসভার এই এলাকাগুলোতে মানুষের জীবনযাত্রা থমকে গেছে। ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে কোটি কোটি টাকা।
এদিকে তৃতীয় দিনেও জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় কালিয়াকৈর পৌরসভার পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে ড্রেন, নালাগুলোতে নিষ্কাশন কাজ চালিয়ে গেলেও পানি কমছে না। ফলে দীর্ঘ হচ্ছে জলাবদ্ধতা, ডুবে যাচ্ছে নতুন নতুন এলাকা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পানি নিষ্কাশনের খাল ভরাট করে শিল্পায়নের প্রভাবে এমন জলাবদ্ধতার কবলে পড়তে হচ্ছে নগরবাসীকে। যে খাল ও ড্রেনগুলো দিয়ে পানি নির্বিঘ্নে নিষ্কাশন হয়ে যেত সেসব খাল ড্রেনগুলো অনেকটাই অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে প্রভাবশালীদের স্থাপনা, বর্জ্যের অব্যবস্থাপনায় যত্রতত্র খাল ও ড্রেনে ফেলা হচ্ছে। যার ফলাফল ভোগ করছেন পৌরবাসী।

পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শাহজাহান আলী ঢাকা পোস্টকে বলেন, কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছে থেকে বছর বছর ট্যাক্স নিচ্ছে, সরকার ড্রেন খান নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দিচ্ছে, সেগুলো যাচ্ছে কই? আমরা দীর্ঘদিন ধরে এখানে বসবাস করছি, এমন কোনো পরিস্থিতি আমাদের ভোগ করতে হয়নি। তাহলে এখন কেন এতো জলাবদ্ধতা হচ্ছে।
তানজিলা আক্তার নামে এক গৃহকর্মী ঢাকা পোস্টকে বলেন, পুরো ঘরের ভেতর পানি, জিনিসপত্র সব ভিজে গেছে। কোনোরকম রুমের খাট উঁচু করে বসবাস করছি। খাওয়া দাওয়া বন্ধ। বাড়ির পাশে ড্রেন আছে কিন্তু ড্রেন দিয়ে পানি নেমে শেষ হতে পারছে না। কয়েকজন লোক এসে একটু পরিষ্কার করে চলে গেছে। আবার ময়লা আবর্জনা এসে বন্ধ।
৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আওলাদ হোসেন বলেন, বুকসমান পানি দিয়ে হেঁটে যাই আবার আসি। বাড়ির একতলা ডুবে গেছে। নিচে ভাড়াটিয়া ছিল, তারা সব ফেলে চলে গেছে। তিনদিন ধরে খুব দুর্ভোগে আছি। আমাদের এমন পরিস্থিতি আগে হয়নি। এখন এমন অবস্থায় আছি, কেউ খোঁজও নিচ্ছে না।
কালিয়াকৈর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম ফখরুল হোসাইন জানান, জলাবদ্ধতা মোকাবিলার পাশাপাশি বিপদগ্রস্ত পরিবারের তালিকা করে তাদের ত্রাণ সহায়তা করা হচ্ছে। আমরা আমাদের দিক থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ জুন দুই ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে ডুবে যায় পৌরসভার কয়েকটি এলাকা। টানা চারদিন পানিবন্দি থাকেন এসব এলাকার মানুষ।
আশিকুর রহমান/এসএইচএ
