বিজ্ঞাপন

কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধিতে ৬ উপজেলায় নতুন করে বন্যার শঙ্কা

কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধিতে ৬ উপজেলায় নতুন করে বন্যার শঙ্কা

‎রাঙামাটির বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়িতে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। গত দুই দিন ধরে এসব এলাকায় পানি নামতে শুরু করলেও টানা ১১ দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে হ্রদ তীরবর্তী বরকল, লংগদু, বাঘাইছড়ি, নানিয়ারচর, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চলে নতুন করে প্লাবনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।‎

‎সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল থেকে রাঙামাটিতে বৃষ্টিপাত বন্ধ রয়েছে। সকাল ১০টার পর থেকে সূর্যের দেখা মেলায় আবহাওয়ার কিছুটা উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে একই সময়ে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর বেড়ে ১০০ ফুট মিন সি লেভেল অতিক্রম করেছে। জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে জেলার ৪৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৪৮৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন। এ ছাড়া এখনো ৭ হাজার ৬৪৬টি পরিবার পানিবন্দি।‎

‎এদিকে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় বরকল উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। হ্রদ তীরবর্তী বসতঘর, পেঁপে বাগান, সবজিক্ষেত ও ধানখেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে উপজেলার প্রায় ১ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সোমবার দুপুর দেড়টা পর্যন্ত বরকল উপজেলার চারটি আশ্রয়কেন্দ্রে ২২৪ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

‎বরকল উপজেলার ভূষণছড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. আনোয়ার ঢাকা পোস্টকে জানান, একটানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত বেড়েছে। এতে বরকল উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বসতঘর ও ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। পেঁপে, ধান ও বিভিন্ন সবজির খেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

‎গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলায় ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়েছিল। তবে গত দুই দিন ধরে পানি নামতে শুরু করায় উভয় উপজেলার সার্বিক পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। প্লাবিত সড়ক ও বসতবাড়ি দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিজ উদ্যোগে সড়ক থেকে কাদামাটি অপসারণের কাজ করছেন।

‎অন্যদিকে পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটি-বান্দরবান সড়কের গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজঘাট সেতু ধসে পড়ায় গত শনিবার সকাল থেকে এখনো সড়কটিতে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ধসের কারণে বাঘাইছড়ি-মারিশ্যা-দীঘিনালা সড়কের তিন কিলো এলাকায় যান চলাচলও বন্ধ রয়েছে।

‎জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দুপুর দেড়টা পর্যন্ত জেলার ৪৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৪৮৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন স্থানে এ পর্যন্ত ১৩৫টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দুপুর দেড়টায় জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রুহুল আমিন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান।

কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সোমবার সকাল থেকে রাঙামাটি শহরের সঙ্গে ছয়টি উপজেলার নৌপথে পুনরায় লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে। তবে কয়েকটি এলাকায় এখনো পানির স্রোত বেশি থাকায় নৌযান চলাচলে সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে।

‎মোস্তফা কামাল রাজু/এএমকে