জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, বন্যায় গরু ডুবে যাচ্ছে, মানুষ মারা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী সেখানে না গিয়ে গেলেন বরিশালে। এর আগের দিন উনি ঢাকা মেডিকেলে গেলেন, প্রিয় জুবাইদা রহমানের সাথে, সেলফি তুললেন। বিয়ের আগে শুনেছি মানুষ প্রেম করে, প্রধানমন্ত্রীর আলহামদুলিল্লাহ বিয়ের পরে যে সুন্দর প্রেম। বাংলাদেশের মানুষ শুধু প্রেম দেখতে পাচ্ছে, দেশের কোনো আর পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছে না।
সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে নওগাঁর বদলগাছী ডাক বাংলো মোড়ে এনসিপির দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাসীরুদ্দীব পাটওয়ারী বলেন, আপনাদের সন্তানরা যারা এইচএসসি পরীক্ষার্থী আছে, তারা সাঁতার কেটে গিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে। এহসানুল হক মিলন- আমার এলাকার ভাই, উনি খুব সজ্জন ব্যক্তি, খুব সুন্দর ভাব দেখান। বাংলাদেশের সকল মন্ত্রী এমন একটা ভং ধরে থাকে যে, সে সবচেয়ে ভালো লোক। আপনি যদি ভালো লোক হন, আপনার একটা সন্তান সাঁতার কেটে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং তার সাথে যে মা আছে, বাবা আছে, এতটুকু হাঁটু পরিমাণ রাস্তায় পানি, সে গিয়ে গর্তের মধ্যে পড়তেছে। আপনার চোখে লজ্জা শরম নাই? সরকার যদি এইচএসসি পরীক্ষা একদিন স্থগিত করত বা পরে নিতো তাহলে কী কোনো সমস্যা হতো। যিনি শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন, উনি এসি রুমে বসে না থেকে যদি গিয়ে বলতেন যে আমি তোমাদের জন্য নৌকার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি বা এই পরিস্থিতি করে দিচ্ছি বা যেখানে পানি সেখানে সেন্টার না করে অন্য জায়গায় সেন্টার দিয়ে দিচ্ছি, তাহলে আমাদের বাংলাদেশে যারা শিক্ষার্থী সুন্দর একটা ব্যবস্থা পেত।
তিনি বলেন, আপনারা একটা ভবনের নাম শুনেছেন— হাওয়া ভবন। এখানে বেগম খালেদা জিয়ার আমলে গিয়াসউদ্দিন আল মামুন গিয়ে টাকা বানাইতো। কোথায় কাকে তুলে নিয়ে আসবে, কোন ব্যবসায়ীকে দখল দেবে— এই হাওয়া ভবনটা হলো গিয়ে লন্ডনে বসেছে। এই হাওয়া ভবনের যারা গ্যাং, উশৃঙ্খল যারা যুবক তারা এখন বাংলাদেশে আইসা ক্ষমতায় বসেছে। এই উশৃঙ্খল যুবকদের হাতে বাংলাদেশ আমরা নিরাপদ মনে করি না। আমাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ব্যবস্থা যদি ঠিক করতে হয় তাহলে এই উশৃঙ্খল যুবকদের থেকে বাংলাদেশকে মুক্তি দিতে হবে। যারা সমাজের সবচেয়ে সজ্জন, তরুণ লোক তাদের কাছে বাংলাদেশ তুলে দিতে হবে।
এনসিপির জেলা কমিটির আহ্বায়ক মাহফুজার রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, যুগ্ম সদস্য সচিব এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমনসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।
মনিরুল ইসলাম শামীম/আরএআর
