মহাসড়কের পাশে দিয়ে সড়ক বিভাগের সরকারি জায়গায় করা নালা দখল করে বিভিন্নভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম। দখল হওয়া নালা উদ্ধার করে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে ভুক্তভোগীরা।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের যুব উন্নয়ন সংলগ্ন তিন মাইল নামক এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী।
অবরোধ কর্মসূচিতে শিশু-বৃদ্ধ, নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী স্থানীয়রা অংশ নেন। এসময় সড়ক অবরোধের ফলে গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের উভয় দিকে এক কিলোমিটারের অধিক এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পানি নিষ্কাশনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিলে অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা।
মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে ভুক্তভোগীরা জানান, বল্লমঝাড় ইউনিয়নের টেঙ্গরজানির তিন মাইল নামক স্থান থেকে যুব উন্নয়ন পর্যন্ত মহাসড়কের পাশে সরকারি খাল দখল করে ছোট-বড় স্থাপনা, চলাচলের রাস্তা তৈরি করাসহ বিভিন্নভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে মধুপুর, ইসলামপুর ও কোমরপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এই জলাবদ্ধতার কারণে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ভুক্তভোগী মানুষদের।
এছাড়া, জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে হেঁটে চলার রাস্তা তলিয়ে যাওয়াসহ আমন বীজতলা নষ্ট হচ্ছে। তারা পানি প্রবাহ অব্যাহত রাখার দাবি করেন।
গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমার বসাক ঢাকা পোস্টকে বলেন, নালা দিয়ে পানি প্রবাহ নিশ্চিতের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে এক কর্মসূচি পালন করছিল স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। একই সাথে বিষয়টি সমাধানের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এসময় তিনি বলেন, যেকোনো যৌক্তিক দাবিতে কর্মসূচি পালন করা যেতে পারে। কিন্তু তা কখনই জনভোগান্তি করে নয়।
এ ব্যাপারে ঘটনাস্থলে থাকা বল্লমঝাড় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জুলফিকার ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কাজের জন্য আমরা ভেকু নিয়ে আসছি। কিন্তু একটা পক্ষ ঝামেলা করার কারণে আজকে কাজ করা যাচ্ছে না। নিচে পানির পাইপ আছে, কাজ করলে ক্ষতি হতে পারে। এখন যার যার জায়গা তাদেরকে ক্লিয়ার করার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। হয়তো কাল থেকে সমাধান হয়ে যাবে।
মাসুম বিল্লাহ/এসএইচএ
