ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার গৌরীনাথপুর বাজার এখন দেশের অন্যতম বৃহৎ ড্রাগন ফলের পাইকারি বিপণনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ড্রাগন ফলের ‘রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত এই বাজারে মৌসুমজুড়ে প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলে জমজমাট কেনাবেচা।
জেলার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকার কৃষকরাও তাদের উৎপাদিত ড্রাগন ফল নিয়ে আসেন গৌরীনাথপুর বাজার। প্রতিদিন কয়েক কোটি টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি হওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতিতে এসেছে নতুন গতি, আর ন্যায্যমূল্য পেয়ে স্বস্তিতে রয়েছেন কৃষকরা।
সরেজমিনে গৌরীনাথপুর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বাজারজুড়ে সারি সারি আড়তে লাল, গোলাপি ও হলুদ রঙের ড্রাগন ফলের স্তূপ। ভোর থেকেই কৃষকরা ভ্যান, পিকআপ ও ট্রাকযোগে ফল নিয়ে আসছেন। আড়তগুলোতে চলছে ফল বাছাই, ওজন করা ও প্যাকেটজাত করার ব্যস্ততা। এরপর ট্রাকযোগে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে এসব ফল।

ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে বাজারে প্রায় ১০০টি আড়ত সক্রিয় রয়েছে। প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার ড্রাগন ফল কেনাবেচা হয়। এখান থেকে ঢাকাসহ চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল ও রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ফল সরবরাহ করা হচ্ছে। গৌরীনাথপুরের ড্রাগন ফলের মান ভালো হওয়ায় দেশের বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল হক বলেন, আগে ড্রাগন ফল বিক্রির জন্য দূরের বাজারে যেতে হতো। এখন গৌরীনাথপুরেই বড় বাজার গড়ে ওঠায় পরিবহন খরচ কমেছে, আবার ন্যায্যমূল্যও পাচ্ছি।
আরেক কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, ড্রাগন চাষে খরচ তুলনামূলক কম, লাভও ভালো। বাজারে ক্রেতার অভাব নেই। তাই প্রতিবছরই বাগানের পরিধি বাড়াচ্ছি।
আড়তদার সাইদুর রহমান বলেন, মৌসুমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ড্রাগন ফল বাজারে আসে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এসে সরাসরি ফল কিনে নিয়ে যান। এতে কৃষক যেমন ভালো দাম পান, তেমনি আমাদের ব্যবসাও ভালো চলছে।

পাইকারি ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম বলেন, গৌরীনাথপুরের ড্রাগনের মান খুবই ভালো। তাই দেশের বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা এখান থেকে নিয়মিত ফল সংগ্রহ করেন। প্রতিদিন একাধিক ট্রাক ভর্তি ড্রাগন ফল দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে।
মহেশপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন সুলতানা বলেন, ড্রাগন ফলের নিরাপদ উৎপাদন নিশ্চিত করতে কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কোনো ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিকের অপব্যবহার যেন না হয়, সে বিষয়ে কৃষি বিভাগের সার্বক্ষণিক নজরদারি রয়েছে। পাশাপাশি গৌরীনাথপুর বাজারের সুষ্ঠু বিপণন ব্যবস্থা এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতেও আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
ড্রাগন ফলের উৎপাদন, বিপণন ও বাজার ব্যবস্থাপনার সফল সমন্বয়ের কারণে গৌরীনাথপুর এখন শুধু ঝিনাইদহ নয়, দেশের ফলচাষের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। প্রতিদিনের কোটি টাকার এই বাণিজ্য স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করছে এবং নতুন করে ড্রাগন চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়িয়ে তুলছে।
সম্রাট হোসেন/এএমকে
