রাজশাহী থেকে পূর্বঘোষণা ছাড়া হঠাৎ বাস বন্ধের কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। যাত্রীরা শিরোইল বাস টর্মিনালে এসে ফিরে যাচ্ছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বিকল্প উপায়ে গন্তব্যে ছুটিছেন, আবার কেউ হতাশ হয়ে বাসায় ফিরে যাচ্ছেন।
জানা গেছে, রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি গঠন ও নির্বাচন আয়োজন নিয়ে বিরোধের জেরে রাজশাহী থেকে সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন ঢাকাগামী যাত্রীরা।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল থেকে রাজশাহীর নওদাপাড়া, শিরোইল বাস টার্মিনালে শ্রমিকদের একাংশের ডাকা কর্মবিরতির কারণে বাসগুলো ছেড়ে যায়নি। দুপুর ২টা পর্যন্ত বাসচলাচল বন্ধ দেখা যায়।
শিরোইল বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে, টিকিট কাউন্টারগুলো খোলা রয়েছে। যেসব যাত্রীরা অগ্রিম টিকিট কেটেছিলেন তাদের টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া অনেকেই টিকিট কিনতে আসছেন, তবে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
হালিমা বেগম (৫৫) নামে একজন গাজীপুর যাবেন। নওগাঁর নিয়ামতপুর থেকে রাজশাহীতে এসেছেন। তার সঙ্গে দুইটা শিশু রয়েছে। তিনি বলেন, এই ছোট শিশুগুলো নিয়ে কীভাবে ঢাকায় যাব। বাসায় ফিরে যেতে হবে। নওগাঁয় যেতে অনেক সমস্যা হবে।
জেলার বাগমারা থেকে ঢাকার উদ্দেশে রাজশাহী সিরিয়াল বাস টার্মিনালে আসেন রাফিউল। তিনি বলেন, আমি আগে জানতাম না যে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। বাস কাউন্টারে এসে শুনি বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। উপায় নাই, এখন বাসায় ফিরে যেতে হবে। আর বাস চলাচল কখন স্বাভাবিক হবে সেটিও কাউন্টার থেকে বলতে পারছে না। তাই রাতে ট্রেনের স্ট্যান্ড টিকিট কেটে যেতে হবে।
এর আগে সোমবার বিকেলে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি গঠন ও নির্বাচন আয়োজন নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পাঁচ সদস্যের একটি নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রস্তাবিত কমিটিতে জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, শ্রম অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, রাজশাহী মহানগর পুলিশের প্রতিনিধি এবং শ্রমিক ফেডারেশনের একজন প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
তবে নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে বাস মালিক সমিতির প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন জেলা শ্রমিকদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য এরশাদ আলী পল্টু। এ সময় বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলালের সঙ্গে তার তীব্র বাকবিতণ্ডা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়ে যায়।
শিরোইলের একতা ট্রাভেলসের বুকিংসহকারী গোলাম মোস্তফা বলেন, শ্রমিকরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বসেছেন আলোচনায়। এখনো কিছু বলা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলালকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
শাহিনুল আশিক/এএমকে
