গাইবান্ধায় বৃদ্ধি পেয়েছে অপরাধপ্রবণতা। খুন, ধর্ষণ, চুরি, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং মাদকসহ নানা ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। শুধু খুন ও ধর্ষণই নয়, ছিনতাই, ডাকাতি ও অপহরণের ঘটনাও ঘটছে। চলতি বছরের অর্ধেক সময় পেরোতেই এসব অপরাধ প্রবণতায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। একের পর এক নৃশংস ঘটনার পাশাপাশি প্রতিশোধমূলক হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও নতুন করে আতঙ্ক বাড়াচ্ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জেলার সাত উপজেলায় ২০২৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে গত পরশু ১২ জুলাই পর্যন্ত সময়কালে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে ২৪টি। এসব হত্যার মধ্যে অন্তত ৬টি ঘটনায় অতি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে স্বজনের হাতেই স্বজন খুন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যা সামাজিক অবক্ষয়ের একটি ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরছে।
একই বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১২০ জন নারী ও শিশু। ধর্ষণ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা দাঁড়িয়েছে ২৪৪টিতে। এ সময়ের মধ্যে চুরির ঘটনা ঘটেছে ১৯৫টি। এ ছাড়া ঘটেছে ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা। মাদক-সংক্রান্ত ১৯৬টি ঘটনাসহ অন্যান্য ঘটনার অপরাধে মামলা হয়েছে ৯৭৬টি। তা ছাড়া খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই, ডাকাতির ঘটনাতেও মামলা হয়েছে সমপরিমাণ।
অনুসন্ধান বলছে, এসব অপরাধের অন্তত চারটি ঘটনার জেরে অভিযুক্তদের বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এই প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন মানবাধিকার সংগঠন, সচেতন নাগরিক ও সুশীল সমাজ সংশ্লিষ্টরা।
স্বজনের হাতে স্বজন খুন
সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া তথ্য ও চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৬টি হত্যাকাণ্ডই ঘটেছে অতি তুচ্ছ বিষয়কে নিয়ে স্বজনদের হাতে স্বজন খুন। কেবল একটি ঘটনায় জমিজমা নিয়ে দ্বন্দে চাচাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে ভাতিজারা।
এসব চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনার মধ্যে সর্বশেষ গত পরশু (১২ জুলাই) গভীর রাতে ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ কঞ্চিপাড়া গ্রামে গভীর রাতে শাহজালাল (৫৩) নামের এক কৃষক চাচাকে বেকি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে তারই আপন বড় ভাইয়ের ছেলে গোলাম হোসেন (৩০)। এর কারণ হিসেবে জানা গেছে, অভিযুক্ত গোলাম হোসেন প্রায় সময়ই তার বউকে প্রচণ্ড মারধর করতেন। এতে চাচা হিসেবে বাধা দিতেন ও প্রতিবাদ করতেন শাহজালাল। সেই ক্ষোভে তাকে হত্যা করে ভাতিজা। পরে তিনি পালিয়ে যান।
এর আগে ১ জুলাই সাঘাটা উপজেলার খামার পবনতাইর গ্রামে তর্কের জেরে নাতি শাকিল মিয়ার (২৫) হাতে খুন হয়েছেন দাদি ফিরোজা বেগম (৫৫)। তিন মাস আগে যাওয়া বউকে সেদিন দুপুরে তাৎক্ষণিক আনতে না যাওয়ায় এক তর্কের জেরেই দাদার হাতের পাট কাটা বেকি দিয়ে দাদিকে কুপিয়ে হত্যা করে শাকিল।
এ ছাড়া গত ২৯ জুন বিকেলে গোবিন্দগঞ্জের দরবস্ত ইউনিয়নের গোশাইপুর গ্রামে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে সাংসারিক কলোহের জেরে স্ত্রী দুলালির (৫৫) বুকে একেরপর এক ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে স্বামী বিরাজ (৬৫)। গত ১৯ বছর আগে একইভাবে তার শ্বাশুরিকেও হত্যা করেছিলেন তিনি।
গত ১৭ জুন রাত ১২টার দিকে গোবিন্দগঞ্জের পৌর শহর এলাকায় একটি মোটরসাইকেল কার তত্বাবধানে থাকবে সেই দ্বন্দ্বেই ছুরিকাঘাতে ছোট ভাই রাকিবের (১৮) হাতে খুন হন আপন বড় ভাই সাকিব (২২)। ঘটনার পর থেকে রাকিব পলাতক।
২১ মে ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের বাজেতেলকুপি (চর নিশ্চিন্তপুর) গ্রামে আপন ভাতিজা সোহেলের (৩০) ছুরিকাঘাতে খুন হন ফুফু জহুরা বেগম (৬০)। সেদিন বটি জাতীয় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ওই যুবক ফুফু জহুরাকে পেটে চোট দেয় এবং চোট দিয়ে এক হাত কেটে ফেলে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
গত ২২ মে বিকেলে স্ত্রী শিউলি বেগমকে (৩২) শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ ওঠে তার স্বামী আনারুল ইসলাম (৪৫) ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। শিউলি ছিলেন আনারুলের দ্বিতীয় স্ত্রী। অভিযোগ রয়েছে, শিউলির নামে থাকা দুই শতক জমি স্বামীর নামে লিখে দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তারা।
গত ২৮ এপ্রিল সকালে গোবিন্দগঞ্জের হরিরামপুর ইউনিয়নের হরিপুর (মধ্যপাড়া) গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধে চাচা কপিল উদ্দিন মাস্টারকে (৬৫) লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে তার ভাতিজা আব্দুল জলিলসহ (বর্তমান ইউপি সদস্য) তার পরিবারের সদস্যরা।
আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া
এসব হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনায় অনেকেই আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছেন, এতে অপরাধপ্রবণতা আরও বেড়ে যাচ্ছে। অন্তত চারটি ঘটনায় মারাত্মকভাবে অপরাধের পুনরাবৃত্তির ঘটনা ঘটেছে। অনুসন্ধান বলছে, হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে অভিযুক্তদের বাড়ি-ঘর ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্টানে। পোড়ানো হয়েছে নিরাপরাধদের বাড়িও।
যার মধ্যে গত ৭ জুন রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের পিয়ারাপুর গ্রামে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে ফাহমিদ রুমন (১৮) খুনের জেরে পরদিন (৮ জুন) বিকেলে ওই গ্রামে অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে আগুন, ভাঙচুর ও লুটপাটের তাণ্ডব চালায় নিহতের পরিবার-স্বজনসহ স্থানীয় জনতা। পরে বাড়ি-ঘরের ভেতরের থালা-বাসনসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র রাস্তায় ফেলে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় দুটি মোটরসাইকেলও। এ সময় উত্তেজিতদের পুলিশ নিবৃত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়।
এ ছাড়া গত ১৬ জুন বিকেলে সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের উত্তর হরিণ সিংহা গ্রামের কিশোর রাহাতকে (১৫) পানিতে চুবিয়ে হত্যার ঘটনায় পরদিন ১৭ জুন সকালে ওই এলাকার অভিযুক্তদের বাড়িতে ভাঙচুরের তাণ্ডব চালাণ নিহতের বিক্ষুব্ধ পরিবার-স্বজনরা। তারা বাঁশের লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অভিযুক্তদের বাড়ি-ঘরের ভেতরে ঢুকে থালা-বাসনসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। পরে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করলে আশপাশের বাড়ির লোকজন ও স্থানীয়দের বাধায় ব্যর্থ হয়।
গত ২১ জুন দুপুরে সাঘাটার বোনারপাড়ায় স্কুল কমিটির দ্বন্দ্বে বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্র শিবির সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী খুনের জের ধরে প্রধান অভিযুক্ত যুবদল নেতা মুকুল-পলাশদের বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় বিক্ষুব্ধরা অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করলে নিমিষেই পুরো বাড়ি পুড়ে ভষ্মীভূত হয়।
ক্ষতির মুখে তিন নিরাপরাধ পরিবার
সেদিনের (২১ জুন) দেওয়া আগুনে পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে অভিযুক্ত যুবদল নেতা মুকুলদের প্রতিবেশী তিনটি নিরাপরাধ পরিবারের বাড়ি-ঘর। ক্ষতিগ্রস্ত এই তিন পরিবারের কেউই অভিযুক্তদের রক্তের ওয়ারিশ বা স্বজন নন। আগুনে তিনটি পরিবারেরই ঘরের যাবতীয় আসবাবপত্র, নগদ টাকা, শিক্ষার্থীদের বই-পুস্তক, ভাতের চাল, কাপড়সহ সব কিছুই পুড়ে ছাই হয়েছে। পুড়ে গেছে খোয়ারের মুরগিও।
সর্বশেষ গত ২৪ জুন দুপুরে ৬/৭ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নে ভেড়ামার ব্রিজ-সংলগ্ন জাফলং রেষ্টুরেন্ট নামের একটি হোটেল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় স্থানীয় জনতা।
পরে ২৮ জুন গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে চাঁদা না পেয়ে একদল সন্ত্রাসী রেষ্টুরেন্টিতে প্রথমে লুটপাট এবং পরে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ করা হয়। পরে এ ঘটনায় মামলাও হয়।
অপরাধের পুনরাবৃত্তির এসব ঘটনা বিষয়ে গাইবান্ধার প্রগতি লেখক সংঘের সাধারণ সম্পাদক রজতকান্তি বর্মন বলেন, অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে না এবং ঘুষ ছাড়া নড়াচড়া করে না। তিনি বলেন, একটি হত্যাকাণ্ডের পরও যদি আসামি গ্রেপ্তারের জন্য মানববন্ধন করতে হয়, তাহলে বুঝতে হবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে মানুষ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন বলে তিনি মনে করেন।
তবে, শুধু পুলিশের ওপর দোষ চাপিয়ে দিলে চলবে না, সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ও বড় একটি কারণ।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) শেখ মুত্তাজুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, একটি অপরাধের বিচার করার সুযোগ কারো নেই, তার জন্য আইন আছে, আদালত আছে। এমনটি করা হলে সেটিও অপরাধই।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইনি সহায়তা পাওয়ার অধিকার সবারই আছে।
ধর্ষণ
ধর্ষণের মতো নেক্কারজনক অপরাধে জড়াচ্ছেন শিক্ষক ও মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনরাও। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ধর্ষণ ও ভিডিও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন গোবিন্দগঞ্জের পণ্ডিতপুর আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ রঞ্জু মিয়া (৫৫)। একাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীক উপবৃত্তির জন্য ডেকে ধর্ষণের পর ভিডিও করে রাখেন। পরে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আবারও নিজ বাসায় ধর্ষণ করেন। পরে বাধ্য হয়ে ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।
গত ২৬ জুন গাইবান্ধার সাদুল্লপুরে কামারপাড়ায় মসজিদ মক্তব পড়তে গিয়ে সাত বছরের এক শিশু ধর্ষণের শিকার হন, ২৭ এপ্রিল গোবিন্দগঞ্জে স্কুলে যাওয়ার পথে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে দিনভর ধর্ষণ করে অচেতন অবস্থায় রাস্তায় ফেলে যাওয়া হয়।
১০মে বিকেলে গোবিন্দগঞ্জে স্কুল থেকে ফেরার পথে তৃতীয় শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে গলায় ছুরি ধরে ধর্ষণচেষ্টা করা হয়।
গাইবান্ধা মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রিকতু প্রসাদ বলেন, নারীদের মানুষ হিসেবে দেখার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। অনেক ঘটনায় বিচার না হওয়া বা দীর্ঘসূত্রিতা অপরাধীদের উৎসাহিত করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম আরও কঠোর ও কার্যকর হওয়া এবং পরিবারকে সচেতন হতে হবে।
ছিনতাই-ডাকাতি
গত ১২ মে রাত ১০টার দিকে সাঘাটার ডাকবাংলা মোড়ে ছিনতাইয়ের কবলে পড়ে রিপা খাতুন (২৪) নামের এক নারী। সেখানে কয়েকজন যুবক পথরোধ করে ওই নারীর কাছে থাকা টাকা ছিনিয়ে নেয়।
এ ছাড়া গেল ৯ জুলাই ফুলছড়ির ব্রহ্মপুত্র নদে দিন-দুপুরে নৌডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতদল নৌকার চালক ও যাত্রীদের পিস্তুল এবং রাম দা ঠেকিয়ে দুই এনজিও কর্মীর ৭ লাখ ৭৯ হাজার ৮০ টাকা, তিনজন মহিলার ব্যাগ ও দুইজনের দুটি বড় (স্মার্ট ফোন), নৌকা চালকের ভাড়া কালেকশনের ৩০০/৪০০ টাকা এবং এক মহিলার হাতে থাকা ১০ হাজার টাকা লুটে নেয়।
গাইবান্ধার নারী সংগঠক ও সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি আফরোজা বেগম লুপু বলেন, খুন ও ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সব বয়সী মানুষই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তার মতে, পরিবার ও সমাজের অবক্ষয়ের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতিই এসবের প্রধান কারণ।
এ ব্যাপারে গাইবান্ধা সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল কাইয়ুম আজাদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, আইনশৃঙ্খলার অবনতির পেছনে একক কোনো কারণ থাকে না। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও ঘটনার ধারাবাহিতা, প্রশাসনিক স্থবিরতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা এবং সামাজিক অবক্ষয়ে পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শরীফ আল রাজীব ঢাকা পোস্টকে বলেন, পুলিশ প্রত্যেকটি ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে থাকে বা নিচ্ছে। চলামান বেশিরভাগ ঘটনায় আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে, অভিযান অব্যহত রয়েছে। অপরাধ নির্মূল ও জনসচেতনায় আমাদের বিট পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও সক্রিয় করা হচ্ছে।
এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শুধু আইন দিয়ে এসব ঘটনা নির্মূল বা নিরসন সম্ভব নয়। এখানে যেমন আইনের প্রয়োগ জরুরি তেমনি এজন্য প্রয়োজন জনসচেতনতা।
মাসুম বিল্লাহ/এএমকে
