টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে চলতি এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের মূলফটক বন্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর কান্দিরপাড় পূবালী চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন তারা। পরে শিক্ষাবোর্ডের সামনে অবস্থান নেন এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা ।
কুমিল্লা সচেতন শিক্ষার্থী সমাজের ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে কুমিল্লার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। বিক্ষোভ মিছিলটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা ব্যানার, ফেস্টুন হাতে নিয়েএইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জানান। পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এসময় শিক্ষার্থীরা বলেন, টানা বৃষ্টি, বন্যা পরিস্থিতি ও বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছাতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেক সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এবং গণপরিবহন সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
তাদের দাবি, এমন দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলে অনেক শিক্ষার্থী সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারবেন না। এতে তারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি মানসিক চাপেরও সম্মুখীন হবেন। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরবর্তী এইচএসসি পরীক্ষাগুলো স্থগিত করার দাবি জানান তারা।
এ সময় শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। ওই মন্তব্যের জন্য শিক্ষামন্ত্রীর প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ারও দাবি জানান তারা।
প্রায় আধঘণ্টার বিক্ষোভ মিছিল সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। পরে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের মূল ফটকে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এসময় শিক্ষাবোর্ডের মূলফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কোতোয়ালি থানার ওসির নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত হন।
কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শিক্ষার্থীরা বোর্ডের মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে বেশ কিছু দাবি জানান। আমরা তাদের আশ্বস্ত করেছি যতটুকু আমাদের পক্ষে পূরণ করা সম্ভব সেগুলো পূরণ করব। বাকিগুলি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।
কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ((ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, কোনোরকম অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই বিক্ষোভ শেষ হয়েছে।
আরিফ আজগর/এসএইচএ
