বিজ্ঞাপন

সিরাজগঞ্জ ডিসি কার্যালয় যেন সিএনজি স্ট্যান্ড, ভোগান্তিতে সেবাপ্রার্থীরা

সিরাজগঞ্জ ডিসি কার্যালয় যেন সিএনজি স্ট্যান্ড, ভোগান্তিতে সেবাপ্রার্থীরা

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে দীর্ঘদিন ধরেই অনানুষ্ঠানিক সিএনজি স্ট্যান্ডে পরিণত হয়েছে। দেখে বোঝার উপায় নেই এটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় নাকি সিএনজি স্ট্যান্ড? এতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে সেবা নিতে আসা মানুষকে বাড়তি ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। তবে, বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা যায়, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রধান ফটক ও অভ্যন্তরীণ সড়কের বিভিন্ন স্থানে সারিবদ্ধভাবে সিএনজিচালিত অটোরিকশা দাঁড়িয়ে রয়েছে। অনেক চালক দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে অবস্থান করে যাত্রী তোলার অপেক্ষা করছেন। ফলে পুরো এলাকাটি কার্যত একটি সিএনজি স্ট্যান্ডের রূপ নিয়েছে।

এ অবস্থার কারণে সরকারি কার্যালয়ে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মূল মহাসড়ক থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়মুখী এক লেনের সড়কটিতে এমনিতেই যানবাহনের চাপ বেশি। তার ওপর সিএনজিচালিত অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত অবস্থান ও যাতায়াত সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

একই সড়কে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, জেলা জজ আদালত, জেলা নির্বাচন অফিস, ট্রাফিক পুলিশ কার্যালয়, পুলিশ সুপারের কার্যালয় এবং সিভিল সার্জন অফিস অবস্থিত হওয়ায় প্রতিদিন সরকারি যানবাহন ও সেবাগ্রহিতাদের ব্যাপক যাতায়াত থাকে। এর মধ্যেই সিএনজিচালিত অটোরিকশাগুলোর অবস্থান এলাকায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

সরেজমিনে আরও দেখা যায়, যাত্রী দেখলেই অনেক চালক যেখানে-সেখানে সিএনজি থামিয়ে যাত্রী উঠাচ্ছেন। এতে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি পুরো এলাকায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হচ্ছে।

সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগী মো. সাব্বির হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনার চত্বরে এভাবে সিএনজি অবস্থান করায় চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। অনেক সময় গাড়ির ভিড়ের কারণে কার্যালয়ে প্রবেশ ও বের হতেও ভোগান্তির শিকার হতে হয়।

আরাফাত ইসলাম মহাথির নামের এক ব্যক্তি ঢাকা পোস্টকে বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় জেলার প্রশাসনিক কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু। এ ধরনের স্থানে সিএনজি স্ট্যান্ড গড়ে ওঠা দৃষ্টিকটু এবং নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগের বিষয়।

ডিডিপি এনজিওর নির্বাহী পরিচালক কাজী সোহেল রানা বলেন, শহরে চলাচলকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশার প্রায় ৭০ শতাংশেরই বৈধ কাগজপত্র নেই। তাই যানজট ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রথমেই এসব অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী মহল ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় এসব সিএনজি নির্বিঘ্নে চলাচল করছে বলেই তাদের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল ও যেখানে-সেখানে পার্কিং বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা দরকার।

জেলা জজ আদালতের অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম মল্লিক ঢাকা পোস্টকে বলেন, আদালত প্রাঙ্গণে বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী, বিচারকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন কাজে এখানে অবস্থান করেন। এমন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিএনজি অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহন পার্কিং বা স্ট্যান্ড হিসেবে ব্যবহার করলে চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং কর্মপরিবেশ ব্যাহত হয়। এই সমস্যার দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদারকি করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

জেলা ট্রাফিক পুলিশের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মোফাকখারুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, আজকে ফোর্স কম ছিল, তাই ব্যবস্থা নিতে পারিনি। আগামীকাল থেকে ব্যবস্থা নেব।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, এখানে সিএনজি দাঁড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। নিচে বিআরটিএ এর অফিস আছে, এখানে কাজের অজুহাত দেখিয়ে অনেকে দাঁড়ায়। আমি আগামীকাল থেকে ব্যবস্থা নেব।

মো. নাজমুল হাসান/এসএইচএ