বিজ্ঞাপন

বিএনপিতে বড় পদ পেলেন জালিয়াতি করে সরকারি জমি দখলে অভিযুক্ত আবুল হাশেম

বিএনপিতে বড় পদ পেলেন জালিয়াতি করে সরকারি জমি দখলে অভিযুক্ত আবুল হাশেম

কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির ৮ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। নবগঠিত কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে জালিয়াতি করে সরকারি খাস জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণে অভিযুক্ত আবুল হাশেমকে। তিনি উত্তর জেলা বিএনপির আগের কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। এ নিয়ে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

গত সোমবার (১৩ জুলাই) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে উত্তর জেলা বিএনপির ৪১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্বের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করে ৮ সদস্যের নতুন আংশিক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

নবগঠিত জেলা কমিটির আহ্বায়ক হওয়া আবুল হাশেম দাউদকান্দির গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। কুমিল্লার দাউদকান্দিতে জালিয়াতি করে সরকারি খাস জমি দখল করে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন বলে তার বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এসব জালিয়াতির বিষয়ে দেশের বেশ কিছু গণমাধ্যমে খবরও প্রকাশ হয়েছে। আইনের কোনো তোয়াক্কা না করেই তিনি ১০ তলা ফাউন্ডেশনের ওই ভবনের তৃতীয় তলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শেষ করেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। 

আবুল হাশেম যে জমিতে ভবনটি নির্মাণ করছেন, সেটি সরকারি খাস জমি বলে ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এবিএম মশিউজ্জামান।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দাউদকান্দির গৌরীপুর ইউনিয়নের গৌরীপুর বাজারে গৌরীপুর-হোমনা সড়কের পাশে নয়াগাঁও মৌজার ৪৭২ দাগের জমিটি সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত। জমিটির ১০ শতাংশ দখল করেছেন আবুল হাশেম। ১৯৮৮ সালে স্থানীয় মাসুদ আলম নামের এক ভূমিহীন ব্যক্তির নামে জমিটি বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। পরে সেখানে অস্থায়ী টিনের ঘর নির্মাণ করেন মাসুদ। মাসুদ আলম আবুল হাশেমের চাচাতো ভাই। কৌশলে জাল-জালিয়াতি করে মাসুদের কাছ থেকে সেই খাস জমি নিজের নামে বন্দোবস্ত করে নেন হাশেম। পরে সেখানে ভবন নির্মাণের কাজে হাত দিলে প্রশাসন থেকে বারবার নিষেধ করা হয়। তবে তিনি তাতে কর্ণপাত না করে ভবনের কাজ চালিয়ে গেলে গভর্নমেন্ট প্লিডার (জিপি) বরাবর মামলা করার আবেদন করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর দলীয় প্রভাব খাটিয়ে আবুল হাশেম সেই জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণে হাত দেন। ১০ তলা ফাউন্ডেশন (ভিত্তি) দেওয়া ভবনটিতে বর্তমানে তৃতীয় তলার ছাদ ঢালাই দেওয়া হয়েছে। ভবন নির্মাণের বিষয়টি নজরে এলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। একজনের নামে বন্দোবস্তে থাকা জমি নিজের নামে বিএস রেকর্ড ও রেজিস্ট্রি করে আইনের ব্যত্যয় ঘটানোয় আবুল হাশেমের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এবিএম মশিউজ্জামান ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিএস রেকর্ড পরিবর্তন এবং একজনের নামে বন্দোবস্তে থাকা সরকারি জমি অন্যজনের নামে পরিবর্তনের সুযোগ নেই। এটাকে আমরা একটি অপরাধ বলে মনে করছি। উপজেলা ভূমি অফিসের চিঠিতে বিষয়টি জানার পর আমরা মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইতোমধ্যে মামলাটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে সোমবার আবুল হাশেমের ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে ৫ বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

বিএনপির কুমিল্লা বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া ঢাকা পোস্টকে বলেন, দল একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় কমিটি গঠন করে। একটি কমিটি মানেই স্থায়ী কিছু নয়। আগের কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন আবুল হাশেম। প্রক্রিয়াগতভাবে তাকে নতুন কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে যদি তার কিছু থেকে থাকে, সেটি ভিন্ন বিষয়। আপনি যে অভিযোগের কথা বললেন, দলের কাছে তেমন কোনো অভিযোগ নেই। সুস্পষ্ট অভিযোগ পেলে দল সেটি বিবেচনা করবে।

আরিফ আজগর/আরএআর