দুই কোটি ৬৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৯ কিলোমিটার অংশের মেরামত কাজ শেষ হয়েছে প্রায় আড়াই মাস আগে। এরই মধ্যে সড়কটির ৪ কিলোমিটার অংশের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। অনেক স্থান থেকে পিচ উঠে গেছে, আবার কোথাও কোথাও সড়ক দেবেও গেছে। এতে যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগ আরও বেড়ে গেছে। পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
এটি জয়পুরহাট-পাঁচবিবি-হিলি সড়কের পাঁচুরমোড় থেকে পুরানাপৈল পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার অংশের বর্তমান চিত্র। কাজটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) অধীনে মেরামত করা হয়।
সওজ কার্যালয় থেকে জানা যায়, জয়পুরহাট-পাঁচবিবি-হিলি সড়কের ১৯ কিলোমিটার অংশ মেরামতের জন্য ২ কোটি ৬৯ লাখ ১৪ হাজার ৫৩৪ টাকার কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কাজটি এস. অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। প্রকল্পের আওতায় পাঁচুর মোড় থেকে পুরানাপৈল পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার অংশে নতুন কার্পেটিং এবং বাকি ১৫ কিলোমিটার অংশে প্যাচিং ও আংশিক মেরামত করা হয়। গত এপ্রিলের শেষ দিকে কাজ শেষ হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, পাঁচুর মোড় থেকে পুরানাপৈল পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকটি স্থানে সড়ক দেবে গেছে। ওই সড়কের চলাচল করা যানবাহনগুলো গর্ত এড়িয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে। কিছু স্থানে সওজ বিভাগের শ্রমিকদের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত কাজ করতে দেখা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণকাজের কারণেই এত দ্রুত সড়কের ক্ষতি হয়েছে। তাদের দাবি, নতুন করে গর্ত ভরাট করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। আড়াই মাস পার হতে না হতেই সড়কটি কেন নষ্ট হয়ে গেল, কারা কাজটি করেছে এবং নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম বা নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার হয়েছে কিনা, এসব বিষয় তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।
পারুলিয়া এলাকার দোকানি আমিনা বেগম বলেন, কাজ শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই সড়ক নষ্ট হতে শুরু করে। এখন বিভিন্ন জায়গায় পিচ উঠে গর্ত হয়েছে।

ভ্যানচালক আবু জাফর বলেন, কয়েক মাস আগেই কাজ করল। কিন্তু কি লাভ হলো? এই কাজের পূর্বের রাস্তা এত খারাপ ছিল না। নতুন করে কাজ করার চেয়ে না করাই ভালো ছিল। এখন ঠিক করতে আবার টাকা বরাদ্দ হবে। এভাবেই চলতে থাকবে।
কাজটি এমন হওয়ার সঠিক কোনো কারণ জানাতে পারেননি জয়পুরহাট সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাজস খান। তিনি বলেন, কার্যাদেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠান সরাসরি কাজ করেনি, রংপুরের ঠিকাদার নাজমুল হক মাসুম কাজটি বাস্তবায়ন করেছেন। এই কাজের ফিটনেস নিয়ে আমরা মোটামুটি সিওর, বিটুমিনও বিপিসি থেকে নেওয়া। এটি আমরা চেক করেছি। এখন ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার করা হচ্ছে। ঠিকাদারকেও বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে রংপুরের ঠিকাদার নাজমুল হক মাসুম বলেন, আমি প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছি। সড়কের এই সমস্যা কেন হলো, সেটা তো ব্যাখ্যা দিতে পারব না। সড়কের কিছু জায়গায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সড়ক অফিস থেকে আমাদেরকে চিঠি দিয়েছে। এই ব্যাপারে আমরা ব্যবস্থা নেব। এখন আবহাওয়া খারাপ, ভালো হলে আমরা সড়ক সংস্কার করে দেব।
তিনি আরও বলেন, সড়কে যদি নিম্নমানের কাজ হতো, তাহলে পুরোটা ফেইল করতো। কিন্তু এটা করেনি। কিছু কিছু অংশে গর্ত হয়েছে। যে মাত্রার বৃষ্টিপাত হচ্ছে, এটা হতেই পারে, স্বাভাবিক ব্যাপার।
এদিকে কার্যাদেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠান এস. অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা লিমিটেডের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদেরও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চম্পক কুমার/এসএইচএ
