বিজ্ঞাপন

হত্যার এক মাস পরও মেলেনি ব্যবসায়ী শামীমের মাথা

হত্যার এক মাস পরও মেলেনি ব্যবসায়ী শামীমের মাথা

বরগুনায় নিখোঁজের পর খাল থেকে মো. শামীম (৪০) নামে এক ব্যবসায়ীর মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধারের এক মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত মাথা উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। তবে হত্যাকাণ্ডের পরপরই জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই হত্যার প্রকৃত রহস্য উন্মোচনসহ শামীমের মাথাটি উদ্ধার করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন জেলার পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা। 

নিখোঁজ শামীমের মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধারের পরপরই জাড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- সজিব, শ্যামল, সফিক, দুর্জয়, সাগর ও শিমুল। আদালতের নির্দেশে রিমান্ডে জিজ্ঞেসাবাদ শেষে বর্তমানে তারা কারাগারে আছেন। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৮ জুন বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না বাজার সংলগ্ন একটি খাল থেকে নিখোঁজ শামীমের মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত ব্যবসায়ী শামীম স্থানীয় ওই গৌরীচন্না বাজারে হাস-মুরগির ব্যবসাসহ বিভিন্ন এলাকায় জায়গাজমি কেনা বেচার কাজ করতেন। এছাড়া মানুষের কাছে তার টাকাপয়সা লেনদেনও ছিল। মরদেহ উদ্ধারের আগের দিন ৭ জুন সন্ধ্যায় নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে তিনি নিখোঁজ হন। 

পরদিন সকালে শামীমের ছোটভাই গৌরীচন্না বাজারে যান। সেখানে বিভিন্ন মানুষের কাছে বড় ভাইয়ের খোঁজ জানতে চাইলে রাতে বাজার সংলগ্ন ব্রিজের পাশে গাছের ওপরে বসে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলতে দেখেছেন বলে জানায় স্থানীয়রা। পরে ওই জায়গায় গিয়ে রক্তের দাগ দেখতে পান তিনি। এছাড়া আশপাশে খোঁজাখুঁজি করলে শামীমের একটি জুতাও পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বিষয়টি জানিয়ে পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় খালের কচুরিপানার ভেতর থেকে শামীমের মাথাবিহীন মরদেহটি উদ্ধার করেন। তবে এ ঘটনার এক মাস পার হলে এখন পর্যন্ত ওই ব্যবসায়ীর মাথা উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করলেও তারা জড়িত কি-না তাও নিশ্চিত করেনি পুলিশ। আর এ কারণে নিহত শামীমের স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি হত্যার রহস্য উন্মোচন করে জড়িত আসামিদের নাম প্রকাশসহ দ্রুত শামীমের মাথাটি উদ্ধার করা হোক।  

গৌরীচন্না বাজারের ব্যবসায়ী মো. ফরিদ হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় শামীম আমার দোকানে এসে চা খেয়ে রাত ৯টার দিকে পাশের দোকানে যায়। এরপর আমি দোকান বন্ধ করে বাড়িতে চলে যাই। পরে শুনতে পাই শামীমকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পরে খালের মধ্যে তার মাথাবিহীন মরদেহ পাওয়া যায়। কিন্তু ওই ঘটনার এক মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত শামীমের মাথাটি উদ্ধার হয়নি। 

নিহতের প্রতিবেশী আফরুজা আক্তার সাথী ঢাকা পোস্টকে বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু গ্রেপ্তারকৃতরাই আসল আসামি কি-না আমরা তা জানি না। যদি তারা মূল আসামি হয় তাহলে ১ মাস পার হলেও এখনও কেনো প্রশাসন মাথাটি উদ্ধার করতে পারেনি। সাধারণ জনগণ প্রশাসনের কাছে বিষয়টি জানতে চায়। আমরা চাই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হোক এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক। কিন্তু অন্য কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হয়।  

হত্যার শিকার ব্যবসায়ী শামীমের ছেলে মো. নাইম ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমাদের পরিবারের একমাত্র ভরসাই ছিল বাবা। আমাদের সব চাহিদা তিনিই পূরণ করতেন। এখন আর আমাদের চাহিদা পূরণের কেউ নেই। প্রশাসনের কাছে আমার একটাই চাওয়া, বাবার মাথাটি উদ্ধারসহ জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করুক। 

শামীমের স্ত্রী রেকসোনা বলেন, এক মাসেরও বেশি হয়েছে আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। ছয়জনকে গ্রেপ্তার করলেও আমার স্বামীর মাথাটি এখন পর্যন্ত পাইনি। তবে তাদেরকে সন্দেহের ভিত্তিতে পুলিশ গ্রেপ্তার করছে। কারণ আমি কারও নাম উল্লেখ করে মামলায় অভিযোগ দিতে পারিনি। আমি প্রশাসনের কাছে বিচার চাই এবং স্বামীর মাথাটা উদ্ধারের দাবি জানাই। 

বরগুনা জেলার পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদা ঢাকা পোস্টকে বলেন, ঘটনাটি একটি নির্মম হত্যাকাণ্ড। ঘটনার পরপরই মামলা রুজু হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের আলামত পর্যালোচনা করে পরপর ছয়জন আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তীতে আদালতে মাধ্যমে রিমান্ড মঞ্জুর করে তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞেসাবাদ করা হয়েছে। আমরা নিশ্চিত এই ছয়জনের মধ্যেই যিনি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তিনি আছেন। তবে এর বাইরেও আরও দুই একজন থাকতে পারে।

শামীমের মাথা উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, জিজ্ঞেসাবাদের তথ্য অনুযায়ী ওই খালের মধ্যের বিভিন্ন জায়গায় জাল দিয়ে আমরা আবারও মাথা খোঁজার চেষ্টা করেছি, কিন্তু পাইনি। তবে একটি সমস্যা হলো ওই খালে স্রোত এবং একটি স্লুইসগেট আছে। ওই গেট থেকে মাথাটি বের হয়ে যদি বড় নদীতে চলে যায় তাহলে মাথাটি পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। তারপরও আমরা আশাবাদী মাথাটি উদ্ধার করা সম্ভব হবে। আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে।  

আব্দুল আলীম/আরকে

বিজ্ঞাপন