নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এক আনসার সদস্য। উপজেলার একটি কমিউনিটি ক্লিনিকের এক নারী হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারের স্বামীর সঙ্গে বাগবিতণ্ডার জেরে বারবার প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগী আনসার সদস্য সোহানুর ইসলাম গত ১ জুলাই থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন।
জানা গেছে, গত রোববার (১২ জুলাই) স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহিঃবিভাগে দায়িত্ব পালনকালে রোগী ও যানবাহনের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে গেটের সামনে রাখা মোটরসাইকেল নির্ধারিত স্থানে সরিয়ে রাখতে বলেন সোহানুর ইসলাম। এ সময় বজরাপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার জাহানারা খাতুনের স্বামী মো. আলাউদ্দিন নিজেকে হাসপাতালের স্টাফ পরিচয় দিয়ে তার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে তিনি আনসার সদস্যকে মারতে উদ্যত হলে উপস্থিত হাসপাতাল কর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
সোহানুর ইসলামের অভিযোগ করে বলেন, ওই দিন বিকেলে আলাউদ্দিন হাসপাতালে এসে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধরের হুমকি দেন। বিষয়টি তিনি প্লাটুন কমান্ডার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান। সোমবার সকালে ফের হাসপাতালে ঢুকে আলাউদ্দিন আনসার সদস্য সোহানকে মারধরের হুমকি দেন। মঙ্গলবার দুই সহযোগীকে নিয়ে আনসার ক্যাম্পে গিয়ে তাকে আবারও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং হাসপাতালের বাইরে ডেকে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
সোহানুর ইসলাম বলেন, ঘটনার পর থেকে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। দায়িত্ব পালন ছাড়া ক্যাম্প থেকে বের হচ্ছি না। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। সমাধানের আশ্বাস পেলেও এখনো কার্যকর ব্যবস্থা হয়নি।
বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আনসার প্লাটুন কমান্ডার আনিসুর রহমান বলেন, রোববার এক আনসার সদস্যের সঙ্গে একজনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। পরে ওই ব্যক্তি বারবার হুমকি দেওয়ায় বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
বাগাতিপাড়া উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, আনসার সদস্য সোহানুর ইসলাম বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। বিষয়টি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও জেলা কমান্ডারকে জানানো হয়েছে। হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জেলা পর্যায়ের সভায় থাকায় তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বজরাপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার জাহানারা খাতুনের স্বামী মো. আলাউদ্দিন। তিনি বলেন, সাবাই গেটের সামনে গাড়ি রাখলেও আমাকে ওই আনসার সদস্য বাধা দেয়। পরে আমাকে বেয়াদব বলে। দুপুরে আমি গিয়ে দেখি আবারও ওখানে অনেক গাড়ি রাখা। মঙ্গলবার সকালে আমার এক বন্ধুর সঙ্গে হাসপাতালে গিয়ে ভেতরে ঢুকে দেখি আনসার ক্যাম্প। তবে রোববারের পর ওই আনসার সদস্যের সঙ্গে আর কোনো কথা হয়নি। আমাকে ট্র্যাপে ফেলতে সে আমার নামে অপপ্রচার করছে।
বজরাপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ্ কেয়ার প্রোভাইডার জাহানারা খাতুন বলেন, আনসার সদস্যই প্রথমে আমার স্বামীর সঙ্গে বেয়াদবি করেন। পরে আমার স্বামীও উত্তেজিত হয়ে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈকত মো. রেজওয়ানুল হক ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে আজকে বসার কথা রয়েছে। আমি একটি মিটিংয়ে আছি। বের হয়ে এবিষয়ে কথা বলব।
নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আশিকুর রহমান/আরকে
